শহরের চেনা ব্যস্ততা থেকে দূরে যাওয়ার এই পথটুকু আমার ভীষণ ভালো লাগে। গন্তব্যের দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে আগাম অনেক কিছু জানা গেলেও পথে জানালার বাইরে যে জীবন চোখে পড়ে, সে বিবরণ সচরাচর কোথাও লেখা থাকে না। অথচ অপরিচিত একটি জায়গা চিনতে সেই দৃশ্যের ভূমিকা কম নয়।

বাতু কেভে পৌঁছেই প্রথমে চোখে পড়ে সোনালি মুরুগান মূর্তি। পেছনে চুনাপাথরের পাহাড়। পাহাড়ের গা বেয়ে উঠে গেছে রঙিন সিঁড়ি। ৪২ দশমিক ৭ মিটার উঁচু মূর্তিটির সামনে দাঁড়ালে মুরুগানের বিশালত্ব টের পাওয়া যায়। মূল গুহামন্দিরে পৌঁছাতে পেরোতে হয় ২৭২টি ধাপ।

সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে একসময় হাঁপ ধরে গেল। একটু দাঁড়িয়ে নিচের দিকে তাকালাম। রোদে ঝলমল করছে মূর্তিটি। সিঁড়ি বেয়ে উঠছেন দর্শনার্থীরা। বানর আর পায়রাগুলো মানুষের ব্যস্ততায় নির্বিকার।

কেউ মাঝপথে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। কেউ বিশ্রাম নিয়ে আবার উঠতে শুরু করেছেন। আমিও একটু জিরিয়ে নিলাম। মনে প্রশ্ন এল, চুনাপাথরের এই গুহা কীভাবে হিন্দু তীর্থস্থানে পরিণত হলো?

হাতে বর্শা, বাহন ময়ূর—মুরুগানের এই পরিচিত রূপ তামিল সংস্কৃতির সঙ্গে এমনভাবে মিশে আছে যে, তাঁকে ঘিরে ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি ভাষা ও জাতিসত্তার অনুভবও কাজ করে। তামিলনাড়ুর পালানি, তিরুচেন্দুরসহ বিখ্যাত সব মুরুগান মন্দিরের মতো বাতু কেভও প্রবাসী তামিলদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান।

বাতু কেভকে মন্দির হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী থাম্বুসামি পিল্লাই (১৮৫০–১৯০২)। উনিশ শতকের শেষ দিকে তিনি গুহাটিকে মুরুগানের উপাসনার জন্য বেছে নেন। ক্রমে তীর্থযাত্রার পরিকাঠামো গড়ে ওঠে। আর বাতু কেভ হয়ে ওঠে মালয়েশিয়ার তামিল হিন্দুদের প্রধান উপাসনালয়।