মশার প্রজনন স্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার চিহ্নিত করার জন্য ১২ দিনব্যাপী জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
সোমবার নগরভবনে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম এ জরিপ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। গত মে মাসে করা এক জরিপের ওপর ভিত্তি করে ডিএসসিসি মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছিল। জরিপকাজের উদ্বোধনকালে প্রশাসক বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রজনন স্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এই জরিপ ডিএসসিসির বর্তমান পরিস্থিতির একটি নির্ভুল চিত্র দেবে, যার ওপর ভিত্তি করে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নেব।’
নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাক-বর্ষা জরিপে দেখা গেছে, বাসাবাড়ি ও আঙিনায় জমে থাকা পানিই এডিস মশার প্রধান প্রজননক্ষেত্র। তাই ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের স্থানে জমে থাকা পানি মুক্ত রাখতে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকরা এগিয়ে এলেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।’
ডিএসসিসি জানায়, আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত এই জরিপ চলবে। এতে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে দৈবচয়ন ভিত্তিতে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। জরিপের মাধ্যমে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলের মধ্যে মশার প্রাদুর্ভাব ও লার্ভার প্রধান উৎসগুলো চিহ্নিত করা হবে।
ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার মোট ৭২ জন মাঠকর্মী এই জরিপে অংশ নিচ্ছেন। তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক ‘কোবো টুলবক্স’ অ্যাপ্লিকেশন। জরিপ শেষে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রেটু ইনডেক্স, হাউস ইনডেক্স, কনটেইনার ইনডেক্স এবং পিউপা ইনডেক্স নির্ধারণ করা হবে। জরিপের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে চিহ্নিত হটস্পটগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামসহ মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।