ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহনে হরমুজ প্রণালির ওপর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পরিকল্পনার অধীনে মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশ- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, ইরাক ও জর্ডানের কাছ থেকে সমপরিমাণ যৌথ অর্থায়ন আহ্বান করবে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে মোট ১০ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় বিনিয়োগ তহবিল গঠনের আশা করছে ওয়াশিংটন। এই যৌথ উদ্যোগ বা বিনিয়োগ প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘পার্টনারশিপ ফর অ্যালাইড ট্রাস্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তি সই হওয়ার আগে এ ধরনের অবকাঠামো পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা কিছুটা তড়িঘড়ি হতে পারে। কারণ, নতুন নির্মিত জ্বালানি স্থাপনায় ইরান আবার ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে।

প্রস্তাবিত তহবিলটি পরিচালিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (ডিএফসি) মাধ্যমে। এটি মূলত একটি মার্কিন ফেডারেল সংস্থা, যা ওয়াশিংটনের জাতীয় নিরাপত্তা নীতি বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে।

উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায় এবং একই সঙ্গে লোহিত সাগরের বাণিজ্য পথ চরম হুমকির মুখে পড়ে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সংকট দেখা দেয়, দাম বৃদ্ধি পায়। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প জ্বালানি পরিবহন পথ তৈরিতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। সূত্র: নিউজম্যাক্স

ই-মেইল: [email protected], [email protected]