অ্যাবসেন্ট মাইন্ড বা ভুলে যাওয়ার প্রবণতা কাটানোর ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম বা কৌশল নেই। এ ক্ষেত্রে চাইলে আপনি নিজের জন্য আলাদা কোনো কৌশল খুঁজে বের করতে পারেন। চলুন, একজন অ্যাবসেন্ট মাইন্ডেড মানুষের মুখোমুখি হই, যিনি অবস্থার উন্নতির জন্য নানা সমস্যায় পড়েছেন–
আপনিও হতে পারেন সেই লোকটি অস্বাভাবিক কিছু না। আপনিও হতে পারেন সেই লোকটি। তিনি নিজে আপনাকে বলে যাচ্ছেন, তিনি একসঙ্গে অনেক ব্যাপারে মাথা ঘামাতে অপছন্দ করেন। এ ছাড়া তিনি খুব অন্যমনস্ক। রিমাইন্ডার ছাড়া কোনো কাজ করতে পারেন না। তার যে কোনো কাজে দেরি করার অভ্যাস।
ক্লাসে দেরি সময়ের ভুল হিসাব করি অনেকে। যেমন- আমার ক্লাস সকাল ৯টায়। তাহলে সময় তো আছেই–এই ভেবে আমি গাড়ি ধরি ৮টা ৪৫ মিনিটে। তখনই মনে হয় আমার প্রয়োজনীয় বই গোছানো হয়নি অথবা আমার প্রয়োজনীয় খাতাটা আনা হয়নি। ফলে ক্লাসে দেরি হয়ে যায়।
ভুলে গেলেন ঘুরতে গিয়ে বা শপিংয়ে যাওয়ার পর বুঝতে পারলেন, পর্যাপ্ত টাকা নেই সঙ্গে। বা হুট করে সেলফোনের ব্যাটারির চার্জ ফুরিয়ে গেল। এমনও হতে পারে যে, ভালো প্রস্তুতির পরও ক্যালকুলেটর অথবা ঘড়ি নিতে ভুলে গেলেন।
কাজের পুনরাবৃত্তি যে কোনো ধরনের কাজ পুনরাবৃত্তি অপছন্দ করি। যদিও আমি ওই কাজে পারদর্শী নই। ধরুন, আমি একটি রেস্টুরেন্টের কিচেনে কাজ করতাম। তখন আমি খুব বাজে সময় কাটিয়েছিলাম।
খেয়াল রাখতে পারেন ওপরের প্রতিটি ঘটনার জন্য আলাদা সমাধান দেওয়া যেতে পারে। অনেকে বলতে পারেন, এসব ব্যাপার এড়ানো খুব সহজ। বাস্তবে এ ধরনের সমস্যা কাটিয়ে ওঠা খুব কঠিন। সঠিক কৌশল অবলম্বন করে আপনি এ ধরনের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেন। এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে পারেন– দিনের শেষে এবং সকালে: রুটিন ও চেকলিস্ট ভুলে যাওয়ার অভ্যাস রোধে এ ব্যাপারটি অনুসরণ করতে পারেন। নিয়মিত দিনের শেষদিকে আপনার মোবাইল ফোনে চার্জ দিন ও সকালের দিকে মোবাইলটি চার্জার থেকে ডিসকানেক্ট করুন। টাইমার: মোবাইল ফোন কিংবা হাতঘড়ির টাইমারটা ওপেন করে কাজ শুরু করুন। এতে ১০ মিনিট আধাঘণ্টা হবে না। নির্ধারিত জায়গা: এটি একটি নির্ধারিত জায়গা, যেখানে আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখা থাকবে। যেন বাসা থেকে বের হওয়ার পথ সহজেই খুঁজে পান। হাত বাড়িয়ে দিন: যে কাজে আপনার কম দক্ষতা, তার সমাধানে অভিজ্ঞ কাউকে খুঁজুন। তবে সব কাজে এটা সম্ভব নাও হতে পারে। নেভার বি লেট এগেইন: ‘নেভার বি লেট এগেইন’–এ বইটি পড়তে পারেন। বইটি থেকে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন। এ ছাড়াও ভুলে যাওয়ার অভ্যাস রোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে–গুরুত্বপূর্ণ কাজ নির্দিষ্ট সাইটে সংরক্ষণ করে রাখা। সামনের জরুরি কাজ ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে রাখা। যে কাজ খুব জরুরি, যা আপনাকে করতে হবে, সেগুলোর জন্য ‘আইওয়ান্টসেন্ডি’ ব্যবহার করুন।