রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সব সময় তাঁর গল্পে, উপন্যাসে কিংবা নাটকে মানুষের নিজস্ব রূপ, গুণ, যোগ্যতা, চরিত্র এবং কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন। এ পৃথিবীতে কত মানুষ প্রতিদিন জন্মায়, প্রত্যেক মানুষ আলাদা গুণের অধিকারী; তারপরও আমরা অন্য মানুষের মধ্যে থাকা ত্রুটিকে আলোচনার বৃহত্তর বিষয় করে তাঁকে কোণঠাসা করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাই। মাঝেমধ্যে এতে সফলও হয়।
‘সুভা’ রবীন্দ্রনাথের এমনই এক লেখা, যেখানে আমরা দেখতে পাই একজন বাক্প্রতিবন্ধী মেয়ে কীভাবে প্রকৃতির সান্নিধ্যে বেড়ে উঠে শৈশব থেকে কৈশোর অতঃপর যৌবনে পদার্পণ করে। কিন্তু যে মানুষগুলো হওয়ার কথা ছিল তার বড্ড কাছের, যাদের সহানুভূতির প্রয়োজন ছিল তার দিবানিশি; তাদের কাছ থেকেই তীব্র গঞ্জনা, ভর্ৎসনা এবং নিহাতি কলঙ্ক বলে আখ্য পেতে হয়েছিল।
পাঠচক্রে বন্ধুরা বলেন, ‘সুভার মতো কত মেয়ে আমাদের সমাজে বেড়ে উঠছে, কেউ পাচ্ছে যথার্থ পৃষ্ঠপোষকতা, ভালোবাসা আর কেউবা কেবল পাচ্ছে যন্ত্রণা, ধিক্কার এবং নিজেকে বারবার সমাজের কিংবা পরিবারের বোঝা মনে করে। রবীন্দ্রনাথ সব সময় তাঁর লেখায় সমাজের কঠিন বাস্তবতাকে সহজভাবে তুলে ধরেছেন। প্রত্যেক মানুষই সুন্দর। সৃষ্টিকর্তা প্রত্যেককে সমানভাবে তৈরি করেছেন। তাই সমাজে আমরা কেউ অস্বাভাবিক নই, বরং ভিন্নভাবে বড্ড স্বাভাবিক। রবীন্দ্রনাথ বারবারই এই একই কথা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন গল্পজুড়ে।’
পাঠচক্রে উপস্থিত ছিলেন বন্ধু জাকারিয়া, উদয়, রুহুল, তামান্না, সামিয়া, শারমিন, নাফিসা, কাউসার, হারুন, মাহবুব, মিলন আব্দুল্লাহ, রায়হান, আমিনুলসহ অন্যান্য বন্ধুরা।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, মুরারিচাঁদ কলেজ বন্ধুসভা