শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি আয়োজনভবিষ্যতের আবাসন খাত এবং আবাসন খাতের ভবিষ্যৎ–ভাবনালেখা: তানভীর শাহরিয়ার রিমনপ্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩: ০৯ তানভীর শাহরিয়ার রিমনআমার ছেলে ও মেয়ে জেন–জি প্রজন্মের। ওদের সঙ্গে কথা বললে বুঝতে পারি, আমার বয়সীদের সঙ্গে ভাবনার পার্থক্য কতটা। জীবনের লক্ষ্য, কাজের ধরন, সৃজনশীলতা, এমনকি সফলতার সংজ্ঞাও ওদের কাছে অন্য রকম।
আমাদের প্রজন্মের অনেকের কাছে নিজের একটি বাসা মানেই জীবনের বড় অর্জন এবং নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব আর আবেগের একটি ঠিকানা। কিন্তু ওদের দেখি, এই বিষয়টিও একটু অন্যভাবে ভাবে। কোথায় পড়বে, কোথায় কাজ করবে, কেমন জীবন চায়—সেই হিসাবের মধ্যে নিজের বাসার জায়গা কোথায়, সেটিও বুঝতে চায়।
আমার মনে প্রশ্ন জাগে, আজকের জেন–জি আর আগামী দিনের জেন–আলফা যখন আবাসনের মূল সিদ্ধান্তগুলো নেবে, তখন তারা কেমন বাসা চাইবে? আমরা আজ যে ধরনের অ্যাপার্টমেন্ট বানাচ্ছি, সেগুলো কি তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারবে? যদি আরও সহজ করে বলি, আজ থেকে ১০, ২০ কিংবা ৩০ বছর পর বাংলাদেশের মানুষের কেমন আবাসন লাগবে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে মনে হয়, জমির আগে মানুষকে নিয়ে ভাবতে হবে। এফএআর, ফ্ল্যাটের আকার কিংবা নির্মাণের ব্যয়ের আগে বুঝতে হবে, সেখানে কারা থাকবে। তাদের জীবন কেমন, সামর্থ্য কতটুকু আর সময়ের সঙ্গে তাদের চাহিদা কীভাবে বদলাবে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যার ‘মধ্যমা বয়স’ প্রায় ২৬ বছর। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক মানুষের বয়স এর নিচে। আবাসন খাতের জন্য এই তথ্যের তাৎপর্য অনেক বেশি। কারণ, এই জনসংখ্যার একটি বড় অংশের পড়াশোনা, কর্মজীবন, সংসার আর নিজের ঠিকানা গড়ার অধ্যায়গুলো এখনো সামনে।
আজ যে তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, কয়েক বছর পর তিনি চাকরি বা ব্যবসা শুরু করবেন। হয়তো বিয়ে করবেন, সন্তান হবে। কাজের প্রয়োজনে শহর বদলাবেন, অনেকেই উচ্চশিক্ষা শেষে দেশেও ফিরবেন। একসময় তাঁর সন্তানেরা বড় হয়ে আলাদা থাকবে। তারপর সেই মানুষটিই প্রবীণ হবে।