মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি ভ্রমণব্রাসেলস থেকে প্যারিস হয়ে পোর্টসমাউথের ভ্রমণস্মৃতিলেখা: ফারুক হাসানপ্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৪৩ প্যারিস যাদের শহর, সেই ফরাসিরা বলে প্যারি, কিন্তু প্যারির ‘র’ উচ্চারণ করতে গিয়ে ওরা জিহ্বার শেষভাগ আর কণ্ঠ দিয়ে এমন কসরত করে যে সেই উচ্চারণটিকে লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। প্যারিস সুন্দরীকে দেখার ইচ্ছা অনেক দিনের। দেশে থাকতে ওর রূপের বর্ণনা অনেক পড়েছি। সিদ্ধান্ত নিই, এবারের খ্রিষ্টীয় পব ইস্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ দিনের ছুটিতে ওকে দেখতে যাব।

তখনো ইউরোপের দেশগুলোর সীমান্ত হাট করে খুলে দেওয়া হয়নি। এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে সীমান্তচৌকিতে ভিসা দেখাতে হতো।

ফরাসি দূতাবাসের তোরণ খুলবে সকাল ৯টায় কিন্তু ভিসাপ্রার্থীদের লাইনের প্রথম দিকে দাঁড়ানোর জন্য সকাল আটটাতেই চলে আসি বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের ফরাসি দূতাবাসে। এত সকালে এসেও দেখি, দূতাবাসের সামনের ফুটপাতে ভিসাপ্রার্থীদের দীর্ঘ লাইন পড়ে গেছে। কী আর করা, লাইনের পেছনে গিয়ে দাঁড়াই। প্রতিক্ষণেই আমার পেছনে লাইনটা দীর্ঘ হতে থাকে।

মার্চের সকাল। তাপমাত্রা শূন্যের নিচে ১২–১৩ ডিগ্রি হবে। আকাশ থেকে তুষার ঝরছে হেলেদুলে। রাস্তায়, ফুটপাতের ওপর কম করেও এক ফুট নরম বরফ জমে আছে। থারমাল ইনার, দুটো সোয়েটার, তার ওপর মোটা জ্যাকেট পরেও হাড়গুলোতে যেন কাঁপন লেগে যাবে।

সকাল ৯টায় দূতাবাসের দরজা খুললে লাইন ধীর পায়ে এগোতে থাকে। ঘণ্টাখানেক পর দূতাবাসের ভেতরে ঢোকার সুযোগ পাই। এবার লাইনের সঙ্গে সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠতে হবে। দোতলাতেই ভিসা দেওয়া হচ্ছে।

সিঁড়িঘরের দেয়ালে দেখি বিশাল এক সাইনবোর্ড ঝোলানো। তাতে লেখা, আমরা ১৪টি দেশকে ভিসা দিই না। দেশগুলো হচ্ছে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, ঘানা ইত্যাদি। একবার ভাবি, আমাকে ভিসা যখন দেবেই না, চলে যাওয়াই ভালো। আবার ভাবি, এই কনকনে শীতে দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে এত দূর যখন এসেছি, ভাগ্যটা পরখ করে দেখি। আমার সামনেই দাঁড়িয়েছে দুই পাকিস্তানি তরুণ-তরুণী। তারাও নোটিশটা দেখে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে লাইনে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।