ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীররক্ষা বাঁধের ৪০ মিটার অংশ নদীতে ধসে গেছে। চিলমারীর কাঁচকোল
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীররক্ষা বাঁধে আবারও ধস দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল-কেডিওয়ারী এলাকায় বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে নতুন করে বন্যা ও নদীভাঙনের আশঙ্কায় তীব্র আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপারের হাজারও মানুষ।
বাঁধে ধসের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয়দের আবাদি জমি ও বসতবাড়ি, বাজার ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শুক্রবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা। সরেজমিনে দেখা যায়, ধসে পড়া অংশে বাঁধের সিসি ব্লক নদীতে তলিয়ে গেছে এবং আশপাশের অংশগুলোতেও নতুন করে ভাঙনের চিহ্ন দেখা দিয়েছে। কাঁচকোল বাজার ও টি-বাঁধসংলগ্ন এলাকাও ভয়াবহ ধসের উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কাঁচকোল এলাকার প্রায় দেড় কিলোমিটার বাঁধ দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর আগে কয়েক দফায় বিভিন্ন পয়েন্টে ধস দেখা দিলে জিওব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে তা ঠেকানো হলেও স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় বারবার ভাঙন দেখা দিচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী ও টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। কাঁচকোল এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান (৪০) উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে প্রায় ৪০ মিটার অংশ নদীতে চলে যায়। চোখের সামনে বাপ-দাদার ভিটেমাটি ও আবাদি জমি নদীতে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমরা দ্রুত এর স্থায়ী প্রতিকার চাই।’ মানিক মিয়া ও সাহান মিয়া নামের দুই স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘বাঁধ নির্মাণের পর মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও এখন আবার আগের মতো নদীভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। একই এলাকার মেহের জামাল (৫০) বলেন, ‘রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারি না। আর কয়েকটা অংশ ধসে গেলে পুরো বাঁধ টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো দরকার।’
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, চলতি বর্ষা মৌসুমের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত সড়কটারী এলাকায় বাঁধের অন্তত ১০ থেকে ১২টি স্থানে ধস দেখা দেয়। এতে প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে নতুন করে আগের ভাঙনকবলিত এলাকার দক্ষিণে কাঁচকোল-কেডিওয়ারী এলাকায় প্রায় ৪০ মিটার অংশ ধসে পড়ে। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, কাঁচকোল এলাকায় প্রায় ৪ দশমিক ১ কিলোমিটার বাঁধ বর্তমানে প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, কাঁচকোল এলাকার প্রায় ৪.১০ কিলোমিটার বাঁধের ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এটি স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্পটির অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে এলাকার দীর্ঘদিনের স্থায়ী সমাধান হবে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি বলেন, ‘ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগের বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া যাবে। এরপর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ই-মেইল: [email protected], [email protected]