বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬DonateLoginপ্রচ্ছদকার্যক্রমছবিভিডিওট্রাস্ট সম্পর্কেAbout Prothom Alo TrustContactUpdatesপ্রথম আলো আলোর পাঠশালাস্বপ্ন দেখা ব্যাডমিন্টনে জেলা মাতিয়ে পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন মিষ্টির লেখা: মো. রহমত আলী, সহকারী প্রধান শিক্ষক, রাজশাহী আলোর পাঠশালাপ্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১: ১৯ রাজশাহী আলোর পাঠশালার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা পারভীন মিষ্টি।এক হাতে পাঠ্যবই, অন্য হাতে ব্যাডমিন্টনের ব্যাট। চোখভরা ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন আর বুকে অভাবকে জয় করার অদম্য সাহস। বাবা-মাকে হারিয়ে দাদির স্নেহছায়ায় বেড়ে ওঠা এক কিশোরীর এই দীপ্ত পথচলা আজ অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণা। বলছিলাম রাজশাহী আলোর পাঠশালার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা পারভীন মিষ্টির কথা।

ছোটকালেই বাবাকে হারায় মিষ্টি। এরপরই নেমে আসে সংসারের চরম অনটন। দাদির আদরে ও আশ্রয়ে বেড়ে ওঠা এই একমাত্র সন্তানটি জীবনের নানা টানাপোড়েনের মুখোমুখি হলেও থমকে যায়নি। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত রাজশাহী আলোর পাঠশালায় পড়াশোনা শুরু করে সে। মিষ্টির কাছে পড়াশোনা কেবল শ্রেণি পার হওয়ার মাধ্যম নয়, বরং নিজের ও পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের একমাত্র হাতিয়ার।

জীবনের বাস্তবতা মিষ্টিকে অনেক কম বয়সেই পরিপক্ব করে তুলেছে। তার স্বপ্ন বড় হয়ে সে পুলিশ অফিসার হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মানুষের পাশে থাকার পাশাপাশি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে দূর করতে চায় পরিবারের অভাব-অনটন ও দুঃখ-কষ্ট।

সানজিদা পারভীন মিষ্টি যখন ব্যাডমিন্টন অনুশীলনে।স্বপ্নের ব্যাপ্তি মিষ্টির বইয়ের পাতার মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়ে পড়েছে খেলার মাঠেও। প্রাথমিক বিদ্যাপীঠ 'নতুন কুঁড়ি' থেকেই ব্যাডমিন্টনের প্রতি টান। নিয়মিত কঠোর অনুশীলন আর খেলার প্রতি তীব্র অনুরাগের কারণে মিষ্টি ইতিমধ্যেই জেলা পর্যায়ে ব্যাডমিন্টন খেলছে। খেলায় আরও বড় সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিদিন নিজেকে প্রস্তুত করছে সে।

প্রতিভার বিকাশ ও স্বপ্নের পথে আলোর দিশারী হিসেবে কাজ করছে রাজশাহী আলোর পাঠশালা। সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের জন্য বিদ্যালয়টি কেবল পড়াশোনার কেন্দ্র নয়, বরং প্রতিকূল পরিবেশ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর এক নতুন প্ল্যাটফর্ম।

জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও স্বপ্ন দেখার এই অদম্য সাহসের নাম সানজিদা পারভীন মিষ্টি। সময়ের পরিক্রমায় সে জেলা ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য পাবে কিংবা পুলিশ অফিসার হয়ে দেশের সেবা করবে—সে উত্তর সময়ের কাছে। তবে প্রতিকূলতাকে জয় করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার যে দৃষ্টান্ত সে তৈরি করেছে, তা ইতিমধ্যেই অসংখ্য সুবিধাবঞ্চিত শিশুর জন্য এক আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।