বাসায় ফেরার পর অদিতি ওর ব্যাগে একটি ডায়েরি খুঁজে পায়। অদিতি ডায়েরিটা খোলে। ডায়েরির লেখা: ‘চারদিকে প্রবল বৃষ্টি, এমন বৃষ্টিভেজা বিকেলে আজকে অদিতিকে প্রথম দেখলাম ক্যাম্পাসে, ওর উৎসুক চোখ একটি ছাতা খুঁজছিল, আমার ছাতাটি ওকে দিলাম, প্রথমে নিতে চায়নি, সেদিন ওর সঙ্গে প্রথম কথা হলো, সেদিনের অদিতি আর আজকের অদিতির মাঝে তফাৎ থাকলেও রাগের মধ্যে কোনো তফাৎ ছিল না। সেই আগের মতো যখন–তখন হুটহাট রাগ করে লাল হয়ে যাওয়া, আর ঠাস করে চড় মারা অদিতি। তবু কেন জানি অদিতিকে আমার ভালো লাগে, অনেক অনেক ভালো লাগে। ওর রাগ আমার কাছে ভালোবাসার অনুভূতি মনে হয়, ওর দেওয়া আঘাত ভালোবাসার স্পর্শ মনে হয়। অনেক রাগী হলেও ওর রাগ বেশিক্ষণ থাকে না, রাগী মানুষেরা তো অনেক বেশি ভালোবাসতে পারে, আমার অদিতির মনেও অনেক ভালোবাসা লুকিয়ে আছে, তা সে প্রকাশ করতে চায় না, হয়তো লুকিয়ে রেখেছে আমার জন্য। সেই লুকানো ভালোবাসা আমি খুঁজবই, সেদিনের হারিয়ে যাওয়া অদিতিকে যখন এত দিন পর খুঁজে পেয়েছি, ওর ভালোবাসাও খুঁজে পাব। এত দিনের জমানো ভালোবাসা অদিতিকে উজাড় করে দেব। কী করে বলব তোমায় অদিতি কতটা ভালোবাসি। অদিতিকে আপন করে পাওয়ার জন্য হাজারটা চড় খেতে রাজি, শত কষ্ট সহ্য করতে রাজি। যেভাবেই হোক, আমি অদিতির মন জয় করবই করব।
লেখাগুলো পড়তে পড়তে অদিতির চোখ ভিজে ওঠে।পরদিন ক্যাম্পাসে নিহাদের পথ আটকে দাঁড়ায় অদিতি।- এগুলো তুমি লিখেছো তাই না?নিহাদ চুপ করে আছে।-কী হলো, কিছু বলছ না কেন?-কী বলব?-আমাকে এত ভালোবাস কেন?-জানি না।-সত্যি জান না?-হুম।-একটা থাপ্পড় মারব কিন্তু...- বলছি বলছি। উত্তর একটাই, ভালোবাসার জন্য ভালোবাসি, তোমাকে ভালোবাসা দেব বলে ভালোবাসি।
নিহাদকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলে অদিতি। কান্না মেশানো কণ্ঠে বলতে থাকে...-তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি নিহাদ। প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও, আর কখনো তোমাকে আঘাত করব না।আড়াল থেকে বন্ধুরা সবাই চিৎকার করে হাততালি দিয়ে ওঠে।নিহাদ: এই ডায়েরি তোমার কাছে কীভাবে গেল?অদিতি: নিশ্চয় তুমি রেখেছ?শামিম: ডায়েরি রাখার পরিকল্পনা ছিল আমার। নয়তো এই ব্যাটা জীবনেও মুখে বলতে পারত না।অরিন: চল এই সুন্দর মুহূর্তটাকে ফ্রেমবন্দী করে রাখি। সবাই একসঙ্গে সেলফি নেয়। হঠাৎ ঝুম করে বৃষ্টি নামে, কিছুক্ষণের ভেতর তা রূপ নেয় প্রবল বর্ষণে। বৃষ্টিভেজা ভালোবাসা যেন আজ পূর্ণতা পেল।লেখক: নাহিদ হোসাইন, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ