প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:২৫ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:২৬
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় ট্রলার ডুবে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিহত রায়েশা বেগম ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাইল্লাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। তাঁর লাশ সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন– হেলাল উদ্দিন, তাঁর ছেলে সজির হোসেন, সামিন হোসেন ও মেয়ে সামিয়া আক্তার। ট্রলার ডুবির ঘটনায় বিয়ের আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে।
নিখোঁজদের সন্ধানে মেঘনা নদীতে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। পাশাপাশি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর অন্ধকার নেমে আসায় উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়। আগামীকাল শুক্রবার সকাল থেকে ডুবুরি দলের উদ্ধার অভিযান চালানোর কথা রয়েছে।
জানা গেছে, সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের শাহপরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল গতকাল। কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে ১৩ জন আত্মীয়-স্বজন বিয়ের বাজার, দুটি গরু ও একটি খাসি নিয়ে ট্রলারে করে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে আমান সিমেন্ট কোম্পানির কাছে ট্রলারটি ঝড়ের কবলে পড়ে মেঘনা নদীতে তলিয়ে যায়। এ সময় আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার আটজনকে উদ্ধার করে। তবে রায়েশা বেগম, হেলাল উদ্দিন, সজিব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেন নিখোঁজ হন। ঘটনার আধা ঘণ্টা পর রায়েশা বেগমের লাশ উদ্ধার হলেও বাকিরা নিখোঁজ রয়েছেন। আজ সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিহত রায়েশা বেগমের বড় ভাই আবুল কাশেম জানান, মামাতো ভাইয়ের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য দুটি গরু, একটি খাসি ও বিয়ের বাজার নিয়ে ১৩ জন আত্মীয়-স্বজন ও মাঝি সোনারগাঁয়ে আসেন। পথে বৃষ্টির সময় ঝড়ের কবলে পড়ে গরু-খাসিসহ ট্রলার মেঘনা নদীতে তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় তাঁর আপন বোন রায়েশা বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ফুফাতো বোনের জামাই হেলাল উদ্দিসহ চারজন।