শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি পাঠকবিসিএস উন্মাদনা বনাম বেসরকারি ক্যারিয়ার: বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম কেন ঝুঁকেছে সরকারি চাকরিতে লেখা: শেখ দিদারুল আলমপ্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১: ০৪ বিসিএস পরীক্ষা শেষ করে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা।প্রথম আলো ফাইল ছবি১৮ কোটি মানুষ, ১৯ লাখ সরকারি পদ, তবু কেন ছুটছি আমরা? বাংলাদেশের বর্তমান পটভূমিতে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হলেই একটি দৃশ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে—বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগারে বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) প্রস্তুতি বইয়ের স্তূপ, কোচিং সেন্টারের দীর্ঘ সারি, আর তরুণদের চোখেমুখে একটিই স্বপ্ন—‘যেকোনো একটি ক্যাডার পেতেই হবে।’
দেশের শ্রমবাজার–সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ও যাচাইকৃত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে এই আকাঙ্ক্ষার পেছনের বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রতিবছর দেশের পাবলিক, প্রাইভেট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলো থেকে চার–পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করেন। (শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের হালনাগাদ তথ্যভিত্তিক প্রাক্কলন)
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে মোট বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ২৪ হাজার, যার মধ্যে স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা ৮ লাখ ৮৫ হাজার। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় চার লাখ, অর্থাৎ আট বছরে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। (সূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪, চূড়ান্ত প্রতিবেদন)
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিলিয়ে প্রতিবছর গড়ে ২০ থেকে ৪০ হাজার জন সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান। (বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিভিত্তিক প্রাক্কলন)
বিসিএস পরীক্ষায় প্রতিবার গড়ে ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৫ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। বিপরীতে ক্যাডার পদ থাকে গড়ে মাত্র তিন থেকে পাঁচ হাজার। অর্থাৎ চূড়ান্তভাবে ক্যাডার পদে টেকার সাফল্যের হার প্রায় ১ শতাংশ বা তারও কম। (সূত্র: বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) বিভিন্ন বিসিএস বিজ্ঞপ্তি ও ফলাফলভিত্তিক তথ্য)