শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি পাঠকবিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬: প্রযুক্তির সম্ভাবনা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতালেখা: মো. বশিরুল ইসলামপ্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ২৭ বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ। বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার থেকে দেখা মিলবে এমন মনকাড়া সূর্যাস্তের দৃশ্য।প্রথম আলো ফাইল ছবিভ্রমণে যাওয়ার আনন্দটা শুরু হয় গন্তব্যে পৌঁছানোর অনেক আগেই। কোথায় যাবেন, কী দেখবেন, পরিবারের সঙ্গে কীভাবে সময় কাটাবেন—এসব ভাবতে ভাবতেই তৈরি হয় একধরনের আনন্দ ও প্রত্যাশা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পর সেই প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার অনেক সময় মিল থাকে না। যেখানে থাকার কথা প্রশান্তি, সেখানে ভিড়; যেখানে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার কথা, সেখানে নানা ধরনের বিড়ম্বনা; যেখানে পরিবারের সঙ্গে কিছু নিরিবিলি সময় কাটানোর কথা, সেখানে শুরু হয় অনবরত ডাকাডাকি ও বেচাকেনা। ফলে যাওয়ার সময় যে আনন্দ থাকে, অনেক সময় ফেরার পথে সেটি আর থাকে না। বরং মনে হয়, একটু স্বস্তির জন্যই যেন এত দূর আসা!

বছরে দু-একবার পরিবার নিয়ে কক্সবাজার যাওয়া হয়। আবার দুই-তিন মাস পরপর দেশের অন্য কোনো প্রাকৃতিক, ঐতিহাসিক বা দর্শনীয় স্থানে যাওয়ার সুযোগ হয়। প্রতিবারই যাওয়ার আগে থাকে আলাদা এক উত্তেজনা। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর অতিরিক্ত ভাড়া, যানজট, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, খাবারের মান ও দামের অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কিংবা প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার ঘাটতি অনেক সময় সেই আনন্দকে ম্লান করে দেয়। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—আমরা কি পর্যটনকেন্দ্র তৈরি করছি, নাকি শুধু পর্যটক জড়ো করার জায়গা তৈরি করছি?

এই প্রশ্ন এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের ভাবনার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা। প্রযুক্তির মাধ্যমে গন্তব্য নির্বাচন, ভ্রমণ পরিকল্পনা, টিকিট ও হোটেল বুকিং, আবহাওয়ার তথ্য, নিরাপত্তা সতর্কতা এবং অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সহজ করা সম্ভব।

কিন্তু এখানেই একটি মৌলিক প্রশ্ন আছে—আমাদের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা কি সেই প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত? অ্যাপের পর্দায় একটি সৈকতকে যতই পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ দেখানো হোক, বাস্তবে যদি পর্যটককে ভাঙাচোরা সড়ক, অনিয়ন্ত্রিত বেচাকেনা, অতিরিক্ত ভাড়া কিংবা হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে প্রযুক্তি শেষ পর্যন্ত পর্যটনের বাস্তব অভিজ্ঞতা বদলাতে পারবে না।

কারণ, একটি পর্যটনকেন্দ্রের সাফল্য শুধু কতজন পর্যটক সেখানে গেলেন, কতটি হোটেল-রিসোর্ট হলো কিংবা কত টাকা বিনিয়োগ হলো, তা দিয়ে মাপা যায় না। পর্যটক সেখানে কতটা নিরাপদ ছিলেন, কতটা স্বস্তি পেয়েছেন, পরিবেশ কতটা পরিচ্ছন্ন ছিল, সেবার মান ও দাম কতটা যুক্তিসংগত ছিল এবং ফিরে এসে তিনি আবার সেখানে যেতে চাইলেন কি না—এসবও পর্যটনের সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

কক্সবাজার তার বড় উদাহরণ। সমুদ্রের বিশালতা, দীর্ঘ সৈকত আর প্রকৃতির সৌন্দর্য কক্সবাজারকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করেছে। কিন্তু সৈকতের ছাতার নিচে চৌকিতে বসে সমুদ্রের ঢেউ দেখার সময়টুকু একটু স্বস্তিতে বসতে গেলেই চারদিক থেকে শুরু হয় হকারদের আনাগোনা। চা, কফি, ডিম, চানাচুর, ঝালমুড়ি, বাদাম, কলা, জুস, কোমল পানীয়সহ নানা পণ্য নিয়ে একের পর এক বিক্রেতার ডাকাডাকি চলে।