এই ভাবনা থেকেই পরিকল্পনা করেছিলাম কোনো এক ছুটিতে সিলেটে গিয়ে বর্ডার হাইকিং করব। শুধু পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখাই নয়; সিলেটের পাহাড়, ঝরনা, সীমান্তবর্তী মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও প্রকৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করব। অবশেষে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলো।

বিছানাকান্দি থেকে লক্ষণছড়া২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় টঙ্গী থেকে বাসে করে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দিলাম। পরদিন সকাল ৮টার দিকে সিলেট শহরে পৌঁছাই। নাশতা করে হোটেলে চেক-ইন করলাম। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম বিছানাকান্দির উদ্দেশে।

প্রায় তিন ঘণ্টা নৌপথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছালাম বিছানাকান্দি। সেখানে পৌঁছে সত্যিই কিছুক্ষণের জন্য নির্বাক হয়ে গিয়েছিলাম। পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ শীতল পানির এমন সমন্বয় আগে খুব কাছ থেকে অনুভব করিনি। পাহাড় থেকে নেমে আসা পানি পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল। পানি এতটাই ঠান্ডা ও স্বচ্ছ যে কিছুক্ষণ পর আমিও সেই পানিতে শুয়ে পড়লাম। শহরের সব ক্লান্তি যেন সেই ঠান্ডা পানির স্রোতে ধুয়ে যাচ্ছে।

প্রায় দুই ঘণ্টা বিছানাকান্দিতে কাটানোর পর শুরু করলাম আমাদের মূল পরিকল্পনা বর্ডার হাইকিং। গন্তব্য ছিল লক্ষণছড়া। নৌকায় করে আরও কিছুটা এগিয়ে স্থানীয় একজন মাঝিকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তের কাছাকাছি থেকে হাঁটা শুরু করলাম।

তাঁদের জীবন খুবই সাধারণ। বিদ্যুৎ নেই, ইন্টারনেট নেই, শহুরে জীবনের অনেক সুবিধাই নেই। অথচ তাদের জীবনে রয়েছে প্রকৃতির সঙ্গে এক অদ্ভুত নিবিড় সম্পর্ক। বাড়ির পাশে গাছপালা, গরু-ছাগল, সাধারণ একটি ঘর আর বারান্দায় খেলতে থাকা ফুটফুটে একটি শিশু—দৃশ্যটি খুব সাধারণ হলেও আমার কাছে অসাধারণ মনে হয়েছে।

একটা বিষয় উপলব্ধি করলাম, আমরা শহরের মানুষ আধুনিক জীবনের অসংখ্য সুবিধা পেয়েও অনেক সময় শান্তি খুঁজে পাই না। অথচ প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকা এই মানুষগুলো হয়তো অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত, কিন্তু তাঁরা প্রকৃতির যে নির্মল সৌন্দর্য প্রতিদিন অনুভব করতে পারেন, সেটি আমাদের জীবনে খুবই বিরল।