বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে এক বছরে ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের আওতায় এসব প্রতিস্থাপন করা হয়েছে বিনা খরচে। আরও চারজন রোগীকে প্রতিস্থাপনের জন্য প্রস্তুত রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে আরও দুজনের লিভার প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।

গতকাল মঙ্গলবার সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, নিয়মিতভাবে মাসে দুটি; বছরে ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে নিয়মিত লিভার প্রতিস্থাপনে নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা গড়ে প্রতি মাসে দুটি; বছরে ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করা। বিএমইউর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ ও ২ সেপ্টেম্বর দুটি এবং চলতি বছরের ৩ ও ৪ জুলাই, ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর চারটি লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে সব রোগীই বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার প্রতিস্থাপন ক্লিনিকের মাধ্যমে ফলোআপ চিকিৎসা নিচ্ছেন।

দেশে ও বিদেশে লিভার প্রতিস্থাপনের খরচের পার্থক্য তুলে ধরে অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, প্রতিবেশী একটি দেশে শুধু ১৪ দিনের হাসপাতাল প্যাকেজেই বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়। এর সঙ্গে রোগী ও ডোনারের যাতায়াত, হোটেলে থাকা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জটিলতা দেখা দিলে আইসিইউসহ অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হয়ে মোট খরচ প্রায় ১ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। নিয়মিত প্রতিস্থাপন করা গেলে খরচ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তবে বর্তমানে অবকাঠামো তৈরি, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞ দলের কারিগরি সহায়তার কারণে প্রতিটি প্রতিস্থাপনে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে বলে জানান উপাচার্য।

১৯ বিভাগের সমন্বয়ে অস্ত্রোপচার ছয়টি লিভার প্রতিস্থাপনে বিএমইউর ১৯টি বিশেষায়িত বিভাগ যুক্ত ছিল। এর মধ্যে হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়াটিক অ্যান্ড লিভার ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি, হেপাটোলজি, অ্যানেসথেসিয়া, অ্যানালজেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাজ করেছে। কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে ভারতের হায়দ্রাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ প্রতিস্থাপন দল। উপাচার্য অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, এটি কোনো একজন সার্জনের সাফল্য নয়। সার্জন, হেপাটোলজিস্ট, অ্যানেসথেটিস্ট, নার্স, রেসিডেন্ট চিকিৎসক, ইনফেকশন কন্ট্রোল টিম মিলে এটি সম্ভব হয়েছে।

ই-মেইল: [email protected], [email protected]