জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর পরিবহন ভাড়াও বেড়েছে। তবে সরকারের বেঁধে দেওয়া বর্ধিত ভাড়ার হিসাব আমলে নিচ্ছেন না কেউ। বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। লঞ্চসহ নৌযানগুলোতে ভাড়া বেড়েছে কয়েক গুণ। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপের মতো পণ্যবাহী গাড়িতেও লাগামহীন ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠছে।

ঢাকাসহ সব জেলা-উপজেলায় দুর্ভোগের চিত্র মিলছে। যাত্রীরা বলছেন, বর্তমান সরকারের ছয় মাসে দুবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ভাড়ায় এমন নৈরাজ্য দেখা দেয়। এবারের দুর্ভোগের মাত্রা আগের তুলনায় অনেক বেশি।

তবে দুর্ভোগের মধ্যে একমাত্র স্বস্তির বিষয় ট্রেনে আগের হিসেবেই ভাড়া আদায় হচ্ছে। সরকারি এই পরিবহনে ভাড়া বাড়ায়নি। তবে লোকসান বিবেচনায় দু-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় সোমবার। পরদিন মঙ্গলবার বাস ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১৭ পয়সা বৃদ্ধির কথা জানায় সরকার। বুধবার লঞ্চের ভাড়া প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে কিলোমিটারপ্রতি ২৩ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা করে বাড়ায় সরকার। ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাতায়াতে সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করা হয়। স্পিডবোটে ১১ শতাংশ ও ফেরিতে ৮ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়।

রাজধানীর গণপরিবহনে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় রাজধানীর গণপরিবহনে ভাড়া বেড়েছে অস্বাভাবিক। প্রতিটি বাস গন্তব্যগুলোর ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে নিজেদের মতো আদায় করছে। গণপরিবহনের এমন স্বেচ্ছাচারিতায় যাত্রীদের সঙ্গে বাসচালক ও হেলপারদের বচসা এবং হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।

রাজধানীর মিরপুর, পল্টন, গুলিস্তান, রামপুরা, মালিবাগ, সদরঘাট, যাত্রাবাড়ী, ধানমন্ডি, শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, উত্তরা, মহাখালী, গুলশান, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র মিলেছে। সব রুটেই বাসের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ভাড়া ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা করে ফেলা হয়েছে। আবার ১৫ টাকার ভাড়া করা হয়েছে ২০ টাকা। এভাবে রাজধানীর সব সিটি বাস সার্ভিসগুলোতেই ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।