পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক আল ইমরানের সঞ্চালনায় বন্ধুরা বলেন, বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে আবদুল হামিদ খান ভাসানী এক অবিস্মরণীয় নাম। শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অসামান্য ভূমিকার জন্য তিনি ‘মজলুম জননেতা’ হিসেবে পরিচিত।

কৃষক-শ্রমিক ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভাসানী আজীবন সংগ্রাম করেছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তানি শাসকদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস স্বরাজ্য পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ময়মনসিংহে সফরে গেলে তাঁর ভাষণ শুনে ভাসানী অনুপ্রাণিত হন। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং তিনি দলটির প্রথম সভাপতি হন।

১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেখানে তাঁর বক্তব্য পূর্ব বাংলার মানুষের স্বাধিকার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রতীক হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও গণ-আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।

কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ খালিদ হাসান বলেন, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন ব্রিটিশ ভারত ও বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। তাঁর ডাকনাম ছিল চেগা মিয়া।

বন্ধু আব্দুর রাহিম বলেন, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারত ও বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, যার জন্য ভাসানীর অনুসারীরা তাঁকে লাল মাওলানা নামে ডাকতেন।

পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ সম্পাদক অনিক চন্দ্র দাস, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক ফারদিন হাসান, বন্ধু সোজন চন্দ্র দাস, জুনায়েদ সালমান ও রুপা চন্দ্র।