বাংলাদেশ থেকে রিটেইল (খুচরা) ব্যাংকিং ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। বৈশ্বিক ব্যবসা কৌশলের অংশ হিসেবে এমন পথে হাঁটছে ব্যাংকটি। তাদের এ ব্যবসা অধিগ্রহণের জন্য বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ও সিটি ব্যাংক প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বৈশ্বিকভাবে করপোরেট ব্যবসার ওপর জোর দিচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা শ্রীলঙ্কা, ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ থেকে রিটেইল ব্যাংকিং বন্ধ বা আংশিক গুটিয়ে নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বাজারেও একই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

জানা গেছে, বেসরকারি খাতের অন্যতম শীর্ষ ব্যাংক ব্র্যাক ও সিটিকে সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ব্যবসা অধিগ্রহণের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়। বিশেষ করে মূল্যায়ন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন, গ্রাহকদের অবহিতকরণসহ কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। মূলত দুপক্ষ একমত হলে দ্রুততম সময়ে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ জুন ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী– ব্যাংকটির মোট ঋণস্থিতি রয়েছে ৩১ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে মাত্র ৫২৯ কোটি টাকা। ব্যাংকটির মোট ঋণের যা ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। যেখানে ব্যাংক খাতের গড় খেলাপি ঋণ ছিল ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের রিটেইল এবং সিএমএসএমই খাতে ঋণ ছিল প্রায় আট হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। ওই সময় পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট ৩০ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা ঋণের যা প্রায় ২৮ শতাংশ। এ ছাড়া ব্যাংকটির ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি আমানতের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ বা ৮ হাজার কোটি টাকা রিটেইল গ্রাহকদের থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের এই পরিকল্পনার কথা জেনেছে। তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত আবেদন পায়নি। তিনি বলেন, বৈশ্বিক কৌশল অনুযায়ী ব্যাংকটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। তবে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে– ব্যাংকটি যদি তাদের রিটেইল কার্যক্রম বন্ধ বা স্থানান্তর করে, তবে নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনো কর্মীকে যেন চাকরিচ্যুত করা না হয়। গ্রাহক বা কর্মকর্তাদের মধ্যে এ নিয়ে যেন কোনো অসন্তোষ তৈরি না হয়।

ই-মেইল: [email protected], [email protected]