বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নির্ধারিত স্থানে একে একে জড়ো হতে থাকেন বন্ধুরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। কেউ অফিস শেষে সরাসরি এসেছেন, কেউ আবার সংসারের নানা দায়িত্ব সামলে সময় বের করে জড়ো হয়েছেন। দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ায় শুরুতেই কোলাকুলি আর কুশল বিনিময়ে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।

স্কুল-কলেজজীবনের দুরন্ত দিনের গল্প দিয়ে শুরু হওয়া এ আড্ডায় এরপর উঠে এসেছে চট্টগ্রামের পুরোনো দিনের স্মৃতি, বর্তমান জীবনের নানা অভিজ্ঞতা আর অর্জনের গল্প। রীতিমতো জমে ওঠে আসর। এর মধ্যেই গানের কলি আর কৌতুকের ঝলকে হাসির রোল পড়ে যায়। পাশাপাশি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার মজাদার সংলাপ আড্ডার আমেজ আরও বাড়িয়ে তোলে।

আড্ডার ফাঁকে সদস্যরা সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেন। বন্ধুদের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক কাজে অংশ নেওয়া এবং নিয়মিত মিলনমেলার আয়োজনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন অনেকেই।

বন্ধু নাওয়ারা নবী বলেন, ‘যান্ত্রিক জীবনে আমরা এতটাই ব্যস্ত যে বন্ধুদের জন্য সময় বের করাই কঠিন। এমন একটা বিকেল সারা সপ্তাহের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। বন্ধুত্বই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

বন্ধু রাজু পাল বলেন, ‘এই বন্ধুসভা আমাদের আড্ডার জায়গা নয় শুধু, ভরসারও জায়গাও বটে।’

সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামতেই আড্ডার ইতি ঘটে। বিদায়ের মুহূর্তে সবাই আবার একত্র হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। স্মৃতির ঝুলিতে আরও একটি সুন্দর বিকেল জমা রেখে যে যার গন্তব্যে ফিরে যান।