শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি ভ্রমণবগালেক, কেওক্রাডং ও সুনসাংপাড়া—পাহাড়ি রাস্তা, মেঘ আর সবুজের গল্পলেখা: মারুফ হোসেনপ্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০২: ২৮ ঢাকা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল শহর। ৫৬৫ বর্গমাইল ঢাকায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ বসবাস করে। রাস্তায় শুধু মানুষ আর মানুষ। রাস্তায় মানুষ, হর্ন, ভিড়—অতিষ্ঠ এই যান্ত্রিক শহর থেকে মুক্ত হতে এবার ঘুরে এলাম বান্দরবানের বগালেক, কেওক্রাডং ও সুনসাংপাড়া।

এবার আমাদের ভ্রমণের সহযাত্রী আমরা সাতজন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার বাসে করে আমরা ঢাকা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা দিই। শুক্রবার সকাল ৮টায় বান্দরবান বাসস্ট্যান্ড নেমে একটা রেস্তোরাঁয় ফ্রেশ হয়ে বগালেক, কেওক্রাডং, সুনসাংপাড়া যাওয়ার জন্য চাঁদের গাড়ি ভাড়া নেওয়ার খোঁজ শুরু করি। কেওক্রাডং যাওয়ার জন্য এখানে একটা কাউন্টার আছে, যেখান থেকে চাঁদের গাড়িগুলো ভাড়া পাওয়া যায়। মোটামুটি দামাদামি করে ১৭ হাজার টাকায় একটা চাঁদের গাড়ি ভাড়া নিই দুই দিনের জন্য। চাঁদের গাড়ি বলতে মূলত চার চাকায় শক্তি আছে, এমন গাড়িকে বোঝায়, যা পাহাড়ে চলাচল করে। আমাদেরটা মূলত ল্যান্ড ক্রুজার মডেলের। সবার ব্যাগপত্র ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ির পেছনে রেখে আমাদের প্রথম গন্তব্য রুমা বাজার পর্যন্ত।

শুরু হলো আমাদের পাহাড়ি পথ চলা। বান্দরবান শহর পার হতেই চোখে পড়ল পাহাড় আর পাহাড়। আমাদের গাড়ি একেবেঁকে চলছে। ঘণ্টা দুয়েক পরে আমরা পৌঁছে যাই রুমা ট্যুরিস্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেন্টারে। সেখানে নির্ধারিত এক্সপ্লোররুমাডটকম ওয়েবসাইটে ঢুকে সবার আইডি কার্ড দিয়ে নাম–ঠিকানা এন্ট্রি করতে হয়। সবার নাম–ঠিকানা এন্ট্রি করার পরে ওই ওয়েবসাইট থেকে একটা টোকেন প্রিন্ট করে জমা দিতে হয় এবং ওই টোকেনের একটা কপি নিজের কাছে রাখতে হয়। সবার নামে আলাদা আলাদা টোকেন থাকে।

আমরা টোকেন নিয়ে পৌঁছে যাই রুমা বাজারে। এখানে ট্যুরিজম ইনফরমেশন সার্ভিস সেন্টার নামে একটা বুথ আছে, যেখান থেকে গাইড ভাড়া করতে হয়। আমরা দেখেশুনে ১ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে দুই দিনের জন্য লিটন দাস নামের একজন গাইড ভাড়া করি। রুমা বাজারে আমরা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিই। বাজার থেকে কলা, পেঁপে, চা খেয়ে আমরা একটু বিশ্রাম নিই। গাইডকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের শুরু হয় বগালেকের উদ্দেশে যাত্রা। রুমা থেকে বগালেকের দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার। এই যাত্রা অনন্য সুন্দর ভয়ংকার যাত্রা। এক ঘণ্টা পরে আমরা পৌঁছাই মুনলাইপাড়ায়। পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন অসাধারণ এক পাহাড়ি গ্রাম। এখানে কিছু খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার শুরু করি পথচলা। এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে ল্যান্ডক্রুজারে এগিয়ে চলছি। কখনো পাহাড়ের ওপরে উঠছি আবার কখনো নিচে নামছি। ঘণ্টা দুয়েক পরে পৌঁছে যাই বগালেকে। চারপাশে পাহাড়, মাঝখানে বৃহৎ লেক। পাহাড়ের উঁচু-নিচু পথ পেরিয়ে যখন হঠাৎ চোখের সামনে নীলচে পানির বিশাল একটি লেক দেখতে পেলাম, তখন দীর্ঘ পথের ক্লান্তি যেন মুহূর্তেই দূর হয়ে গেল।

আগে থেকেই ঠিক করে রাখা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন বগালেক কটেজে আমরা একটা রুম ভাড়া করে রেখেছিলাম তিন হাজার টাকায়। এক রুমে সাতজন। ঢালাও বিছানা। সারা দিনের ক্লান্তি, গাড়ির ঝাঁকুনি—সবাই ভীষণ ক্লান্ত। পাশের একটা রেস্টুরেন্টে গাইড রাতের খাবার অর্ডার করল। রাত ৮টায় খাবার দেবে। প্রত্যেকজন ৪০০ টাকা। মুরগির মাংস, ভাত, ভর্তা, সবজি। গাইড–চালকসহ আমরা নয়জন। এখানে সব খাবারই হোটেলে অর্ডার করার পরে রান্না শুরু করে। আমাদের রুমটা ঠিক লেকের সামনে। রুমে ব্যাগপত্র রেখে নেমে পড়ি স্বচ্ছ পানির লেকে।

বগালেক বাংলাদেশের পার্বত্য বান্দরবান জেলার একটি অন্যতম প্রাকৃতিক পর্যটন স্থান। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ বগালেক। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের কোলে অবস্থিত এই লেক তার নীলাভ পানি, চারপাশের সবুজ পাহাড় এবং মেঘময় পরিবেশের জন্য বেশ পরিচিত। বগালেক কেওক্রাডংয়ের বেজ ক্যাম্পস্বরূপ। কেওক্রাডংয়ে অল্প কিছু থাকার কটেজ আছে, সেটা আবার পাওয়া মুশকিল। সে জন্য অধিকাংশ পর্যটক বগালেকে রাত্রিযাপন করেন।