শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬Loginবন্ধুদের লেখাকার্যক্রমফিচারখেলাক্যারিয়ারমনোবন্ধুফটো ফিচারবন্ধুসভা সম্পর্কে বন্ধুদের লেখাবই আলোচনা বইয়ের পাতায় চেনা জীবন—কাফকার ‘দ্য ট্রায়াল’লেখা: সুমন পালপ্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ১০ ফ্রানৎস কাফকার কালজয়ী উপন্যাস ‘দ্য ট্রায়াল’এক ছুটির বিকেলে অনলাইনে পডকাস্ট শুনতে শুনতে হুট করেই বিশ্বসাহিত্যের বিখ্যাত লেখক ফ্রানৎস কাফকার কালজয়ী উপন্যাস ‘দ্য ট্রায়াল’-এর সঙ্গে পরিচয়। ভেবেছিলাম শতবর্ষ পুরোনো কোনো সাধারণ সাহিত্যের গল্প শুনব। কিন্তু গল্পটি যত সামনে গড়িয়েছে, তত বেশি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছি। মনে হয়েছে, এটি কেবল শত বছর আগের কোনো কাল্পনিক চরিত্রের গল্প নয়; বরং আজকের ব্যস্ত করপোরেট জীবন ও জটিল ব্যবস্থার জালে আটকে থাকা আমাদেরই এক অচেনা আয়না।
উপন্যাসের শুরু বেশ নাটকীয়ভাবে। প্রধান চরিত্র জোসেফ কে একটি ব্যাংকের উচ্চপদস্থ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তাঁর ৩০তম জন্মদিনের সকালে হঠাৎ দুজন অচেনা লোক এসে জানায়, তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। কিন্তু তাঁর অপরাধ কী বা কোন আইনে তিনি অভিযুক্ত, তা কেউ বলতে পারে না। তাঁকে কোনো কারাগারেও পাঠানো হয় না, বলা হয় তিনি যেন প্রতিদিনের মতো ব্যাংকের কাজ চালিয়ে যান। কিন্তু এই দেখানোর স্বাধীনতার আড়ালে শুরু হয় এক রহস্যময় আমলাতান্ত্রিক আদালতের তাড়া ও মনস্তাত্ত্বিক উৎপাত।
গল্পের এই জায়গায় এসেই কাফকা জীবনের এক নিষ্ঠুর সত্যকে উন্মোচিত করেছেন। যে প্রতিষ্ঠানের জন্য একজন মানুষ নিজের মেধা ও সময় উজাড় করে দেয়, কোনো অদৃশ্য চক্রান্ত বা ব্যবস্থার শিকার হলে সেই মানুষটি কতটা অসহায় হয়ে পড়ে, তা জোসেফের প্রতিটি পদে পদে ফুটে ওঠে। প্রতিদিন অফিসে গিয়ে সাধারণ কাজ করা আর ভেতরে–ভেতরে নিজেকে ‘নির্দোষ’ প্রমাণের আকুল চেষ্টা—এ দুই মানসিক চাপে কীভাবে মানুষের কর্মক্ষমতা, স্বাধীনতা ও শান্তি বিষাক্ত হয়ে যায়, তা লেখক নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
জোসেফ কে ভেবেছিলেন, সততা আর যুক্তি দিয়ে তিনি এই অদৃশ্য উৎপাত থেকে বেঁচে যাবেন। কিন্তু ক্ষমতা ও অন্ধ বিচারব্যবস্থা যখন যুক্তিহীন হয়ে পড়ে, তখন সাধারণ মানুষের মেধা ও সততা সেখানে ধূলিসাৎ হয়ে যায়। বিপদের দিনে আশপাশের পরিচিত অনেকে উপদেশ দিলেও মূল চক্রান্তের বিরুদ্ধে জোসেফকে একাই লড়তে হয়েছিল।
‘দ্য ট্রায়াল’ নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। জীবনের এমন কঠিন পরিস্থিতিতে অন্ধভাবে কোনো ব্যবস্থার ওপর ভরসা না করে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মসম্মান ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করাটা যে কতটা জরুরি, তা এই উপন্যাস চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। সহজ উপস্থাপনা ও গভীর জীবনবোধের কারণে কাফকার এই সৃষ্টি আজও সমান প্রাসঙ্গিক। জীবনের বাস্তব রূপ আর নিজের অস্তিত্বকে নতুন করে আবিষ্কার করতে চাইলে বইটি পড়া বা শোনার অভিজ্ঞতা সত্যি অনন্য হতে পারে।