সিনেমার শুরুটা একটি সড়ক দুর্ঘটনা দিয়ে। দ্রুতগতির একটি গাড়ি ফুটপাতে উঠে কয়েকজন মানুষকে চাপা দেয়। অভিযুক্ত চালক প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান। তাকে বাঁচাতে তদন্তের গতিপথ বদলানোর চেষ্টা হয়, সাক্ষ্য-প্রমাণ নিয়ে কারসাজি হয়, আর এমন একজনকে সামনে আনার চেষ্টা করা হয়, যিনি প্রকৃত চালক নন। শেষ পর্যন্ত আদালতে প্রশ্ন ওঠে ক্ষমতা ও অর্থ কি সত্যকে বদলে দিতে পারে?

বলিউডের সিনেমা জলি এলএলবির এই গল্পকে হয়তো অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবের একটি ঘটনা সেই প্রশ্নটাকেই আবার সামনে এনে দিয়েছে। ২৪ বছরের মেহেদী মঙ্গলবার বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের একটি ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

দুর্ঘটনার পর উপস্থিত লোকজন গাড়ির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে দেন। পুলিশও তাকে হেফাজতে নেয়। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে তাকে তার চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

এরপর ঘটনাটি আরও প্রশ্ন তৈরি করে। মেহেদীর বড় ভাইয়ের করা মামলায় ওই কিশোরের নাম নেই। মামলায় গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারক নামের একজনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক। অথচ দুর্ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে গাড়ির চালকের পাশ থেকে ওই কিশোরকে বের হয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে।

কিশোরটিই গাড়ি চালাচ্ছিল এই মুহূর্তে এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার সুযোগ নেই। তদন্তেই সেটি নিশ্চিত হওয়ার কথা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যে কিশোরকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছিল, ভিডিও ফুটেজে যাকে চালকের আসন থেকে বের হতে দেখা যাচ্ছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়ার কারণ কী? মামলায় চালক হিসেবে অন্য একজনের নাম কীভাবে এলো? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যতক্ষণ না পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ মেহেদীর পরিবারের কাছে ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা কোথায়?

জলি এলএলবি সিনেমাতেও পুলিশের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। শেষ পর্যন্ত অখ্যাত আইনজীবী জলি সেই তদন্তের অসংগতিগুলো সামনে আনার চেষ্টা করেন এবং প্রকৃত প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রমাণ আদালতে হাজির করেন। সিনেমাটি ১৯৯৯ সালের সঞ্জীব নন্দা হিট অ্যান্ড রান মামলার ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত ছিল।