অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন আদিবা ফারাহ ও জাহিদ লিংকন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থিত দর্শকমণ্ডলী ও অতিথিদের প্রতি সম্মান জানিয়ে সমবেত কণ্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ পরিবেশন করা হয়। সূচনাপর্বে আয়োজক সংগঠন টিবিওয়াই-এর দীর্ঘদিনের প্রেক্ষাপট ও সাংগঠনিক রূপরেখা তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি খাইরুল ইসলাম। তুর্কু শহরে আশি ও নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশিদের সামাজিক তৎপরতা বিদ্যমান থাকলেও কমিউনিটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ১৮ জুন সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমানে শতাধিক সক্রিয় সদস্য নিয়ে গঠিত এ সংগঠন নিয়মিত সামাজিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড, যেমন রমজানে ইফতার মাহফিল, কোরবানির ঈদ উদ্‌যাপন, ক্যারিয়ার উন্নয়ন সেমিনার এবং শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করে আসছে।

সাংস্কৃতিক পর্বের প্রথম চমক ছিল শিশুদের পরিবেশনায় ‘বাংলাদেশের ছয় ঋতু’ শীর্ষক বিশেষ মঞ্চ–উপস্থাপনা। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত—বাংলার এই বৈচিত্র্যময় ঋতুচক্রকে খুদে পরিবেশকেরা অত্যন্ত প্রাণবন্তভাবে মঞ্চে তুলে ধরে উপস্থিত সবার ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়।

অনুষ্ঠানের সাহিত্য ও আবৃত্তি পর্বে পরিবেশিত হয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী কবিতা ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’, জনপ্রিয় কবিতা ‘নিমন্ত্রণ’ ও ‘আমার বন্ধু’। এ ছাড়া আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল একটি একক কি–বোর্ড ইনস্ট্রুমেন্টাল পরিবেশনা, যা দর্শককে সুরের ভিন্ন জগতে নিয়ে যায়।

নৃত্য ও নাট্যপর্বে দেশীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলা হয়। ঐতিহ্যবাহী ‘লীলাবালি’ ও ‘রূপবান-এ নাচে’ গানের সঙ্গে মনকাড়া নৃত্য পরিবেশিত হয়। এর পাশাপাশি পরিবেশিত হয় ‘ভাসাব দোহারে’ এবং রবীন্দ্রসংগীত ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’-এর নান্দনিক নৃত্য। পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য তুলে ধরে পরিবেশিত হয় বিশেষ নৃত্য ‘পাহাড়ি উৎসব’। আধুনিক সমাজব্যবস্থা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবকে ব্যঙ্গাত্মক আঙ্গিকে উপস্থাপন করতে মঞ্চস্থ হয় একটি একক রম্য নাটিকা ‘টিকটকার বান্ধবী’।

সমাপনী বক্তব্যে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে সহসভাপতি মো. আবদুল্লাহ আল সাজ্জাদ উপস্থিত অভিভাবক, শিশু-কিশোর, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রবাসের মাটিতে নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা ও শিকড়ের সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুক্ত রাখা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য রক্ষা করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। দর্শকের উষ্ণ করতালির মধ্য দিয়ে সফল ও সার্থকভাবে সমাপ্ত হয় ফিনল্যান্ডের তুর্কুর ‘বাংলাদেশি কালচারাল ডে ২০২৬’।