প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পানাউল্লাচরের বধ্যভূমি পরিষ্কার করে দিয়েছেন ভৈরব বন্ধুসভার বন্ধুরা। ‘শহীদের স্মৃতির আঙিনা’ শিরোনামে ২৫ অক্টোবর বিকেলে প্রথম আলো ভৈরব অফিসে বন্ধুরা একত্র হন। নিয়ে আসেন বালতি, ঝাড়ু ও অন্যান্য পরিষ্কারের সামগ্রী। বিকেল চারটা থেকে শুরু হয় বধ্যভূমি পরিষ্কারের কাজ।
বধ্যভূমি গড়ে ওঠার পেছনে গল্প শোনান প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক সুমন মোল্লা। তিনি বলেন, ‘১৪ এপ্রিল ভৈরবে প্রবেশ করে পাকিস্তানি বাহিনী। আকাশে দেখা গেল চারটি জেট বিমান, একাধিক হেলিকপ্টার ও গানশিপ। শুরু হয় নির্বিচার হত্যা, গুলিবর্ষণ আর অগ্নিসংযোগ। প্রাণ বাঁচাতে হাজারখানেক মানুষ জড়ো হন উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লারচর খেয়াঘাটে। উদ্দেশ্য নৌকাযোগে ব্রহ্মপুত্র পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী নরসিংদীর বেলাব উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামে আশ্রয় নেওয়া। খেয়াঘাটে হাজারো মানুষের ঢল, কিন্তু খেয়া মাত্র একটি। কেউ সাঁতরে, ছোট শিশুদের কোলে নিয়ে যে যাঁর মতো নদী পার হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু খেয়া পার হওয়ার আগেই পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে শহীদ হন সাড়ে তিন শ মানুষ। রক্তে ব্রহ্মপুত্রের স্বচ্ছ পানি লাল হয়ে গিয়েছিল। সবকিছু থেমে যাওয়ার পরও পাকিস্তানি সেনাদের ভয়ে আপনজনের লাশ অনেকে নিতে আসেননি। তাঁদের সবাইকে দেওয়া হয় গণকবর। সেই থেকে জায়গাটির নাম পানাউল্লারচর বধ্যভূমি।’
এ বিষয়ে সভাপতি জান্নাতুল মিশু বলেন, ‘এখানে এসে মনে হলো জায়গাটি মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য। সিগারেটের উচ্ছিষ্ট আর দেশলাইয়ের কাঠিতে ভর্তি ছিল চারপাশ। আমাদের উচিত এই স্মৃতিস্তম্ভকে শ্রদ্ধা করে চারপাশ পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখা।’
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি নাহিদ হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাফিস রহমান, পাঠচক্র ও পাঠাগার সম্পাদক মহিমা মেধা, বন্ধু হেপি বেগম, রাকিব হোসেন, রাসেল রাজ, সানজিদা ইসলাম, ইমরান হাসানসহ অনেকে।