শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬DonateLoginপ্রচ্ছদকার্যক্রমছবিভিডিওট্রাস্ট সম্পর্কেAbout Prothom Alo TrustContactUpdatesপ্রথম আলো আলোর পাঠশালামেঘনাপাড়ের গল্প পরিবারের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছেন ইয়াছিননিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১: ৩১ ‘মেঘনাপাড় ধীবর আলোর পাঠশালার’ প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন।দারিদ্র্যের নির্মম কশাঘাত, চর এলাকার প্রতিকূল পরিবেশ কিংবা অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—কোনো কিছুই দমাতে পারেনি ইয়াছিনকে। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম আর সাহসিকতার ওপর ভর করে সাফল্যের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চলের এই অকুতোভয় তরুণ।
লক্ষ্মীপুরের চর রমণী মোহন এলাকার ‘মেঘনাপাড় ধীবর আলোর পাঠশালার’ প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন দেখিয়ে দিয়েছেন, স্বপ্নের ডানায় ভর দিলে এবং সততার সঙ্গে লড়ে গেলে প্রতিকূলতার পাহাড়ও ডিঙানো সম্ভব।
পাঁচ ভাই ও তিন বোনের বড় পরিবারে ইয়াছিনের জন্ম। বাবা মো. জব্বার রাঁড়ী ছিলেন পেশায় একজন সাধারণ কৃষক। একসময় রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে পরিবারের অন্ন জোগালেও, বয়সের ভার আর নানা শারীরিক অসুস্থতা আজ তাকে শয্যাশায়ী করে ফেলেছে। মা কামু বেগম পরম মমতায় শত অভাবের মাঝেও সন্তানদের আগলে রেখেছেন। কিন্তু বাবার অক্ষমতায় পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ যখন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল, তখনই জ্যেষ্ঠ সন্তানদের একজন হিসেবে ইয়াছিন নিজের কাঁধে তুলে নেন সংসারের দায়িত্ব।
‘মেঘনাপাড় ধীবর আলোর পাঠশালার’ প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন।শিক্ষা অর্জনের পথটি ইয়াছিনের জন্য মোটেও মসৃণ ছিল না। চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়াতে গড়ে ওঠা ‘মেঘনাপাড় ধীবর আলোর পাঠশালা’ থেকেই শুরু হয় ইয়াছিনের জীবনের মোড় ঘোরা। পাঠশালার শিক্ষকদের নিবিড় পরিচর্যায় শিক্ষার মজবুত ভিত্তি গড়ে ওঠে তার। পরবর্তীতে শত বাধা ঠেলে সে ভর্তি হয় রায়পুর সরকারি কলেজে। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে ২০২৫ সালে রায়পুর সরকারি কলেজ থেকে সফলতার সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয় সে।
এইচএসসি পাসের পর পরিবারের তীব্র আর্থিক সংকট তাকে থমকে যেতে বাধ্য করে। বসে থেকে সময় নষ্ট করার বিলাসিতা ইয়াছিনের ছিল না। বৃদ্ধ অসুস্থ বাবা আর বড় পরিবারের বেঁচে থাকার রসদ জোগাতে সে চলে আসে গাজীপুরে। বর্তমানে সেখানে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কর্মরত আছেন ইয়াছিন।
দিনরাত কায়িক পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ তিনি পাঠাচ্ছেন চরের বাড়িতে। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির এই চাকরিই এখন তার পুরো পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। ইয়াছিনের এই উপার্জনে ফুটছে বৃদ্ধ বাবা-মা আর ছোট ভাই-বোনদের মুখের হাসি।