পাঠচক্রে ‘শব্দগুলো ইংরেজদের নয়’, ‘বাংলা মাসের নামের কথা’, ‘শব্দগুলো বিদেশি’, ‘বাংলা ভাষায় ভূত’সহ নির্বাচিত অংশ পাঠ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাংলা ভাষার শব্দভান্ডার, শব্দের উৎস এবং ব্যবহারিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কোনো শব্দ তার আদি অর্থ হারিয়ে নতুন অর্থ ধারণ করে, কোনো শব্দ সময়ের প্রবাহে দৈনন্দিন ব্যবহার থেকে হারিয়ে গেলেও সাহিত্যে ও লোকজ ভাষায় টিকে থাকে। লেখক ফরহাদ খান সহজ ও সাবলীল উপস্থাপনার মাধ্যমে শব্দের এমন পরিবর্তনশীল যাত্রাকে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন।

বইটির নির্বাচিত অধ্যায়গুলোতে ইংরেজি ও অন্যান্য বিদেশি শব্দ কীভাবে বাংলা ভাষায় মিশে গিয়ে নিজস্ব রূপ নিয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে ‘বাংলা মাসের নামের কথা’ অংশে বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ কিংবা আষাঢ়ের মতো মাসগুলোর নামকরণের পেছনের নক্ষত্র ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস উঠে আসে। একইভাবে ‘বাংলা ভাষায় ভূত’ এবং দৈনন্দিন লোকজ নানা শব্দের গভীর সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট ও লোকবিশ্বাসের দিকগুলো নিয়েও পাঠচক্রে বিশ্লেষণ করা হয়।

নোয়াখালী বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসর।শব্দের অর্থ ও ব্যবহার সম্পর্কে জানা মানে শুধু ভাষা শেখা নয়; বরং একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীবনধারাকে জানারও সুযোগ। একটি শব্দের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা, সামাজিক বাস্তবতা ও মানুষের চিন্তার পরিবর্তন।

ফরহাদ খানের ‘শব্দের গল্প’ বইটি পাঠকদের পরিচিত শব্দগুলোর অচেনা ইতিহাস জানার সুযোগ করে দেয়। সহজ ভাষায় উপস্থাপিত শব্দের ব্যাখ্যা পাঠককে ভাষা সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে শেখায় এবং দৈনন্দিন কথাবার্তায় ব্যবহৃত শব্দগুলোর পেছনের গল্প অনুসন্ধানে আগ্রহী করে তোলে।

বন্ধু আফরিনা ইসলাম বলেন, ‘একটি শব্দের গল্প মানে শুধু তার অর্থ জানা নয়; বরং তার জন্ম, বিবর্তন ও মানুষের জীবনের সঙ্গে তার সম্পর্ককে আবিষ্কার করা।’