নোয়াখালী সদর উপজেলায় গভীর রাতে এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর চরমটুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খোলিশা টোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মুখোশধারী ৭-৮ জনের একটি ডাকাত দল নির্মাণাধীন ওই ভবনে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে এক ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গৃহকর্তা নজির আহমেদ (৬০) ও তার ছোট ছেলে মো. হৃদয় (১৫) আহত হন। খবর পেয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডাকাতির শিকার বাড়ির লোকজন ও পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সৌদি প্রবাসী মো. আলী আকবরের নির্মাণাধীন বাড়িতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ৭-৮ সদস্যের একটি ডাকাত দল হানা দেয়। ডাকাত দলের উপস্থিতি টের পেয়ে গৃহকর্তা নজির আহমদ ও তাঁর ছেলে হৃদয় এগিয়ে এসে বাধা দিলে তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে নজির আহমদের বাঁ হাতের আঙুল ও তার ছেলে হৃদয়ের বাঁ কাঁধ আঘাতপ্রাপ্ত হয়। রাতেই স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে গতকাল শুক্রবার দুপুরে তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রাজিব আহমদ চৌধুরী জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত নজির আহমদ ও হৃদয় হোসেন নামের দুই ব্যক্তিকে গতকাল দুপুরের দিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের আঘাত গুরুতর নয়। তাই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গৃহকর্ত্রী কমলা বেগম বলেন, কানের দুল খুলে না দিতে চাইলে ডাকাত দল গুলি করার হুমকি দেয়। গুলির ভয়ে আমি ও আমার দুই মেয়ে কানে থাকা স্বর্ণের দুল খুলে দিয়ে দিই।

আহত গৃহকর্তা নজির আহমদ বলেন, ডাকাত দল ঘরে প্রবেশের পর আমি ও আমার ছেলে ঘুম থেকে জেগে উঠি। ডাকাত দলের সামনে পড়লে তারা আমাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তারা তিন জোড়া কানের দুল (এক ভরি) ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।