বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬Loginপদার্থবিজ্ঞানপ্রযুক্তিগণিতমহাকাশজীববিজ্ঞানকার্যকারণবিজ্ঞান কল্পগল্পকমিকসবিজ্ঞানরম্যসাক্ষাৎকার জীববিজ্ঞাননোবেল পেয়ে কেমন কাটল ডাইসারোথের প্রথম দিন, দেখুন ছবিতেস্টকহোম থেকে ফোনটা আসার পর পৃথিবীর যেকোনো মানুষেরই আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাওয়ার কথা। উদ্‌যাপন শুরু করাই হয়তো স্বাভাবিক দৃশ্য। কিন্তু স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কার্ল ডাইসারোথ কী করলেন? তিনি সোজা রান্নাঘরে ঢুকে গেলেন ছেলেমেয়েদের স্কুলের টিফিনের স্যান্ডউইচ বানাতে!

২০২৬ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন কার্ল ডাইসারোথ। তাঁর জাদুকরি আবিষ্কার অপটোজেনেটিকসের মাধ্যমে জীবন্ত মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলোকে আলো দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এমন এক যুগান্তকারী আবিষ্কারের পর একজন বিজ্ঞানীর জীবনের সবচেয়ে বড় দিনটা ঠিক কীভাবে শুরু হলো? চলুন, কয়েকটি ছবির দেখে তাঁর প্রথম দিনটার গল্প বোঝার চেষ্টা করি। ছবিগুলো তুলেছেন অ্যান্ড্রু ব্রডহেড।

১ / ৯ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সদ্য নোবেলজয়ী কার্ল ডাইসারোথ ফোনে কথা বলছেন কোনো এক সাংবাদিকের সঙ্গে। চোখেমুখে হয়তো রাত জাগার ক্লান্তি, কিন্তু ঠোঁটের কোণে লেগে আছে এক অদ্ভুত প্রশান্তির হাসি। জীবনের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতিটা পাওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েই শুরু হলো তাঁর নতুন দিনের রুটিন।২ / ৯এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী কার্ল ডাইসারোথ৩ / ৯এই ফ্রেমে ধরা পড়েছে এক দারুণ পারিবারিক মুহূর্ত। নোবেলজয়ী হলেও তিনি তো একজন বাবা! তাই সকাল হতেই ১৬ বছরের ছেলে হাডসন, ১৩ বছরের মেয়ে এমা এবং ১০ বছরের মেয়ে সোফির জন্য নিজের হাতে ছয়টি স্যান্ডউইচ বানালেন। স্ত্রী মিশেল মনজে-ডাইসারোথও স্ট্যানফোর্ডের অধ্যাপক। দুজনে মিলে যখন মেয়েদের নোবেল জয়ের খবরটা দিচ্ছেন, মেয়েরা তখন স্কুলে ‘পিকচার ডে’ বা ছবি তোলার দিনের জন্য তৈরি হচ্ছিল। বাবার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের খবরটা পেয়ে সোফি আর এমা বাবাকে জড়িয়ে ধরে। সেই পরম মমতায় জড়িয়ে ধরার দৃশ্যটাও দারুণভাবে উঠে এসেছে ছবিতে।৪ / ৯এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে ডাইসারোথের বড় ছেলে আলেকজান্ডারকে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষের ছাত্র সে। বাবার নোবেল জয়ের খবর পেয়ে আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করেনি। সোজা সাইকেল চালিয়ে ফিরে এসেছে বাড়িতে।৫ / ৯১৬ বছরের ছেলে হাডসনকে যখন বাবা নিজেই খবরটা দিচ্ছিলেন, তখন হাডসন খুশিতে বাবাকে জড়িয়ে ধরে। সেই মুহূর্তটিও লেন্সের চোখ এড়ায়নি।৬ / ৯সকালের সবচেয়ে সুন্দর ছবিগুলোর একটি হলো পুরো পরিবারের একসঙ্গে জড়িয়ে ধরার দৃশ্য। এত বড় একটা অর্জন যে পরিবারের সবার সমর্থন ছাড়া সম্ভব হতো না, এই একটা ছবিই যেন সেই গল্পটা বলে দিচ্ছে। পুরো পরিবারের এই ভালোবাসার দৃশ্য যেকোনো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।৭ / ৯সকালের পারিবারিক পর্ব শেষে ডাইসারোথ চলে যান স্ট্যানফোর্ডের ক্লার্ক সেন্টারে। সেখানে তাঁর ল্যাবের সদস্য ও সহকর্মীরা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন। ডাইসারথ যখন সেন্টারের করিডোর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন, দুই পাশে দাঁড়ানো সহকর্মীরা হাততালি দিয়ে তাঁকে এক অন্যরকম সংবর্ধনা জানান। সহকর্মীদের ভেতর দিয়ে হাসিমুখে হাই-ফাইভ করতে করতে এগিয়ে যাওয়ার এই দৃশ্যটি সত্যিই রোমাঞ্চকর।৮ / ৯এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ক্লার্ক সেন্টারের মূল স্পটলাইটে সবার মধ্যমণি হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন কার্ল ডাইসারোথ।৯ / ৯নোবেল জেতার পর সবার মনেই প্রশ্ন জাগে, এবার বিজ্ঞানীর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে? ডাইসারথের উত্তরটা ছিল একদম সোজাসাপ্টা, ‘আবার কাজে ফিরতে হবে।’ কেন? কারণ তাঁর মতে, ‘আমাদের এখনো অনেক কিছু আবিষ্কার করার বাকি। বহু মানুষকে সাহায্য করতে হবে।’যে মানুষটা নোবেল জয়ের সকালেও সন্তানদের স্যান্ডউইচ বানাতে ভোলেন না, তাঁর মুখেই এমন কথা সবচেয়ে বেশি মানায়।