কুমিল্লায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি ৭৭ জন। রোববার সকাল থেকে তাদের অনেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে এসে নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ জানতে চান। তবে কারও কাছ থেকে তারা স্পষ্ট কোনো উত্তর পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

তাদের অভিযোগ, পুলিশ প্রতিবেদনের কারণে নিয়োগপত্র আটকে দেওয়া হয়েছে বলে কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, তা জানানো হয়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১২ নভেম্বর কুমিল্লায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। লিখিত পরীক্ষা হয় চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি। মৌখিক পরীক্ষা হয় ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। জেলার জন্য ৫০৮ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে ৪৭৭ জন মেডিকেল সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। তাদের মধ্যে গত সপ্তাহে ৪০০ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। পুলিশ প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন কারণে ৭৭ জনের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।

রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসব প্রার্থী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে আসেন। তাদের অনেকের হাতে ছিল নিয়োগ পরীক্ষার বিভিন্ন কাগজপত্র। কারও সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সও শেষ হওয়ার পথে।

বরুড়া উপজেলা থেকে স্কুলশিক্ষক বাবা আলী আকবরকে সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে এসেছিলেন ইসরাত জাহান মিশু। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২০ সালে স্নাতক ও পরে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন তিনি। এরপর দুইবার বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। পরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

ইসরাত জাহান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েও কেন বাদ পড়লাম, কেউ জবাব দিচ্ছে না। নিয়োগপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। শেষ সময়ে এসে নিয়োগপত্র না পাওয়ায় খুব হতাশ লাগছে।’