জুলাইয়ের শুরুতে কারফিউ শুরু হওয়ার পর থেকে সবকিছু যেন থেমে গিয়েছিল। ভার্সিটি বন্ধ, নেটওয়ার্ক বন্ধ, বাইরে বের হওয়া অসম্ভব; কিন্তু আমাদের দরকার ছিল জানা—আমাদের সঙ্গীরা কোথায়, কতজন মারা গেছে, কতজন বন্দী। এই অজানা ভয় আর অসহায়বোধ থেকেই আমি লালবাগ কেল্লার পাশে বন্ধু রেদোয়ানের বাসায় উঠেছিলাম।
কারফিউর দ্বিতীয় দিন ২১ জুলাই সন্ধ্যায় আমরা আজিমপুর কলোনি দেখতে গিয়েছিলাম। রাতে ঘুমানোর আগে খবর পেলাম—প্রতিটি ফ্ল্যাটে পুলিশ যাচ্ছে, মুঠোফোন খুঁজছে, ছবি থাকলে জেল। তখন রাত তিনটা পর্যন্ত জেগে থেকে আমি সব ডিলিট করে দিয়েছিলাম।
রেদোয়ানকেও বলেছিলাম; তবে রেদোয়ান মেসেজ ডিলিট করলেও একটি জিনিস খেয়াল করেনি—গ্যালারি বা মেসেঞ্জার থেকে ডিলিট করলেও ফাইলগুলো স্থায়ীভাবে মোছার আগে ফোনের ‘Recently Deleted’ ফোল্ডারে বা ট্র্যাশে জমা থেকে যায়। ও ভেবেছিল সব মুছে গেছে; কিন্তু আসলে কিছুই পুরোপুরি ডিলিট হয়নি।
পরের দিন বিকেলের পর রেদোয়ানকে বললাম, ‘চল কোথাও থেকে হেঁটে আসি। আজ তোকে বাইরে খাওয়াব, আম্মা টাকা পাঠিয়েছে।’
রেদোয়ান বলল, ‘চল, আমরা এদিক দিয়ে ভেতর হয়ে হেঁটে বুড়িগঙ্গার পাড়ে যেতে পারি।’ কতক্ষণ আর চারদেয়ালের মধে৵ বন্ধ হয়ে থাকা যায়! বিকেলে দুজন গল্প করতে করতে বুড়িগঙ্গার পাড়ে গিয়ে উপস্থিত হলাম। অনেকক্ষণ পাড় ঘেঁষে হাঁটলাম, তারপর একটা ছোট্ট ডিঙিতে পার হয়ে ওপারে গেলাম বেল্লাল মামার বিখ্যাত মুড়ি খেতে।
ওখানে গিয়ে তো মাথা চড়কগাছ! এক প্লেট মুড়ি ১৪০ টাকা, তা–ও আবার আমাদের সিরিয়াল নম্বর ৩৫। অন্তত আধা ঘণ্টার আগে পাওয়া যাবে না। তাই ভাবলাম, অপেক্ষা না করে একটু সামনে থেকে হেঁটে আসি। হাঁটতে হাঁটতে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত চলে এলাম।