নেত্রকোনায় নিখোঁজের ছয় দিন পর নাজু আক্তার খাতুন (৩৪) নামে এক নারীর পুঁতে রাখা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার সাবেক স্বামী মো. নুরুল আমিনকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে নাজু আক্তারের ছোট ভাই মো. শুভ বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। শনিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমিন হত্যার পর লাশ গুম করার কথা স্বীকার করেছেন। নাজু আক্তার নেত্রকোনা পৌরসভার কাটলী গ্রামের মো. ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। নুরুল আমিনের বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার নগুয়া কুশলগাঁও গ্রামে।
পুলিশ জানায়, ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাজু আক্তার নিখোঁজ হন। সন্ধান না পেয়ে তার ভাই শুভ মঙ্গলবার নেত্রকোনা মডেল থানায় জিডি করেন। তদন্তের একপর্যায়ে নুরুল আমিনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমিন জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কীটনাশক কিনতে জেলা শহরে গেলে নাজু তাকে ফোন করেন। বড়বাজার এলাকায় তাঁদের দেখা হয়। এ সময় নাজু তার মুঠোফোন নিয়ে নিলে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে ভরণপোষণের ৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে নাজুকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় রাজুর বাজার এবং সেখান থেকে মোটরসাইকেলে মৌগাতী ইউনিয়নের খাটপোড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় যান।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে টাকা নিয়ে আবারও কথা-কাটাকাটি হলে নুরুল আমিন নাজুর বুকে আঘাত করেন। পরে পাশের শ্মশানঘাটে নিয়ে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমিন জানিয়েছেন। এরপর লাশ কাঁধে করে বাড়ির পাশের ঢুকিয়ালী নদীর পাড়ে নিয়ে কোদাল দিয়ে গর্ত করে মাটিচাপা দেন বলে পুলিশকে জানান তিনি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৪ বছর আগে নুরুল আমিন ও নাজু আক্তারের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে একাধিকবার বিচ্ছেদ হলেও পরে তারা আবার একসঙ্গে বসবাস করেন। নাজুর করা ভরণপোষণ ও ধর্ষণের একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।