মেধাবীদের হাতে রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে একনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। বরেণ্য সাংবাদিক আতাউস সামাদের ১৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণ সভায় এ আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে) শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে এই স্মরণসভার আয়োজন করে।
প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, সাংবাদিকতা বা সমাজ গঠনে, রাষ্ট্রের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হলো সংবাদ ও সাংবাদিকতা। সেখানে আতাউস সামাদ এক বিরল উদাহরণ। অত্যন্ত স্বাধীনচেতা ছিলেন। যেটা মনে করতেন সেটাই করতেন। সেই পথ থেকে তাকে সরানো যেত না। দেশের নষ্ট রাজনীতি কখনও তাকে স্পর্শ বা প্রভাবিত করতে পারেনি। আজকে সাংবাদিকদেরও সমাজ ও মানুষের জন্য লড়াই করতে হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আজকে একটা নষ্ট রাজনীতির মধ্যে আমরা আছি। এতদিনেও রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যাচ্ছে না। স্বাধীনতার সময় থেকেই বিচ্যুতি ঘটছে। সেখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করার কথা সাংবাদিকদের। কিন্তু চলার পথে সাংবাদিকরা সেই রাজনীতির সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত। এ কারণে সমাজ ও গণতন্ত্রের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
আলোচনায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, আতাউস সামাদের সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তথ্যের নির্ভুলতা ও সত্যতা। সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিসিআইসি ভবন পরিদর্শনের সময় কর্মচারীদের এরশাদবিরোধী স্লোগানের সঠিক খবর বিবিসিতে প্রচার করায় বাংলাদেশে বিবিসির কার্যালয় বন্ধ ও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরও তিনি সত্যের পক্ষে অটল থাকেন। তার নীতিভিত্তিক ব্যক্তিত্বের কারণে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারাও তাকে গভীরভাবে সম্মান ও সমীহ করতেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিএজির সভাপতি এম আবদুল্লাহ বলেন, তিনি জুনিয়র সাংবাদিক ও সহকর্মীদের সাথেও বন্ধুর মতো আলোচনা করতেন। সেভাবেই সম্পর্ক রক্ষা করতেন। বয়সের ব্যবধানটা ঘুচে যেত ওনার সাথে দেখা হলে। তিনি সেভাবে সাংবাদিকদের সাথে মিশে কাজ করতেন এবং করাতেন। পূর্বপাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে আপসহীন সংগ্রাম করেছেন তিনি।
আতাউস সামাদের ভাতিজা ও মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেন, আতাউস সামাদ কেবল একজন প্রখ্যাত সাংবাদিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত সৎ, সাহসী ও সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত মানুষ। কাজের প্রতি আতাউস সামাদের আন্তরিকতা ও সততা ছিল অকৃত্রিম।