উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবন। এই পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ক, ভালোবাসা, দায়িত্ব, মানসিক টানাপোড়েন এবং বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তাদের জীবন এগিয়ে যায়। লেখক পরিবারের পরিচিত পরিবেশের মধ্যেই এমন কিছু জটিল বিষয় তুলে ধরেছেন, যা পাঠককে মানুষের জীবন ও সমাজ সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে।

রাবেয়া, মন্টু, খোকা, রুনু ও অন্য পারিবারিক চরিত্রগুলোর মাধ্যমে পরিবারের ভেতরের সম্পর্ক ও সংকট ফুটে ওঠে। পরিবারের সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও তাদের অনুভূতি, চিন্তা ও অভিজ্ঞতা এক নয়। কখনো ভালোবাসা ও মমতা তাদের কাছাকাছি নিয়ে আসে, আবার কখনো পরিস্থিতি ও মানসিক দ্বন্দ্ব জীবনে কষ্টের সৃষ্টি করে।

উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, লেখক মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যাগুলোকে কেবল ব্যক্তির সমস্যা হিসেবে দেখাননি; বরং পারিবারিক পরিবেশ ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গেও সেগুলোর সম্পর্ক তুলে ধরেছেন। একটি পরিবারের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনা কীভাবে প্রতিটি সদস্যের জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে, তা কাহিনিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঘটনাগুলো পাঠককে শুধু গল্পের পরিণতি জানার আগ্রহ দেয় না; বরং চরিত্রগুলোর প্রতি সহানুভূতিশীল হতেও শেখায়। তাদের ভুল, দুর্বলতা, দুঃখ ও অসহায়তার মধ্য দিয়ে মানুষের জীবনের জটিলতা প্রকাশ পায়। এভাবেই ‘নন্দিত নরকে’ একটি সাধারণ পরিবারের গল্পের সীমা অতিক্রম করে মানবজীবনের বেদনাময় দিকগুলোর প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।

আলোচনায় অংশ নেন সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম খান, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক মো. হৃদয়, বন্ধু সানজিদা, প্রতিভা, নাজমুলসহ অন্যরা। ‘নন্দিত নরকে’ বইয়ের ওপর কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন মেহেদী হাসান খান।