সভায় নদ-নদীর মাছ ও অন্যান্য জলজ সম্পদ সংরক্ষণ, মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় জেলেদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে মাছ শিকার, চীনা জাল বা শয়তান জালের ব্যবহার এবং এসব পদ্ধতির কারণে মাছের পোনা, ছোট মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, নদ-নদীতে অবৈধ ও ক্ষতিকর পদ্ধতিতে মাছ আহরণ বন্ধ করা না গেলে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হবে। এতে একদিকে যেমন নদীর জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে মাছের প্রাপ্যতা কমে জেলেদের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়বে। তাই মৎস্য আইন মেনে মাছ আহরণ, ক্ষতিকর জালের ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং নদীর পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, নদ-নদী শুধু মাছের উৎস নয়, বরং নদীকেন্দ্রিক মানুষের জীবন-জীবিকা, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নদীর মাছ ও জলজ সম্পদ রক্ষায় জেলেদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
গাইবান্ধা বন্ধুসভার একটি ভালো কাজ।এ বিষয়ে গাইবান্ধা বন্ধুসভার সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ‘নদ-নদী ও জলজ সম্পদ আমাদের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য এবং জেলেদের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে মাছ শিকার এবং চীনা জাল ব্যবহারের মতো ক্ষতিকর পদ্ধতি নদীর মাছ ও জলজ পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। মাছের প্রজনন মৌসুমে আইন মেনে চলা, অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ করা এবং নদীদূষণ রোধে জেলেদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন হতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে নদীর মাছ ও জলজ সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব।’
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মেহেদী হাসান, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক তাওহিদা খন্দকার, লেখক ও শিক্ষক রঞ্জু খন্দকার, সামাজিক উন্নয়ন পদক্ষেপ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এম সাদ্দাম হোসেন ও প্রথম আলোর গাইবান্ধা প্রতিনিধি শাহাবুল শাহীন।
গাইবান্ধা বন্ধুসভার এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে নদ-নদী ও জলজ সম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি জেলে সম্প্রদায়কে সংরক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।