শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬Loginবন্ধুদের লেখাকার্যক্রমফিচারখেলাক্যারিয়ারমনোবন্ধুফটো ফিচারবন্ধুসভা সম্পর্কে বন্ধুদের লেখানজরুলের কণ্ঠ থেমে গিয়েছিল, তাঁর কথা আমরা কতটা শুনেছিলেখা: রাজা রেফায়েত উল্লাহপ্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭: ৩০ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকোলাজ: আপন জোয়ার্দারজাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা খুব সহজেই কয়েকটি শব্দের কাছে ফিরে যাই— বিদ্রোহ, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা, প্রেম। শব্দগুলো ভুল নয়। কিন্তু একজন মানুষকে কয়েকটি শব্দে আটকে ফেলতে পারলে তাঁকে নিয়ে ভাবার ঝামেলাটা কমে যায়। তাঁকে স্মরণ করা যায়, তাঁর জন্মদিনে ফুল দেওয়া যায়, তাঁর কবিতা আবৃত্তি করা যায়। অথচ তাঁর চিন্তার মুখোমুখি না হয়েও এসব করা সম্ভব।

নজরুলের জীবন নিয়ে বরং অন্য একটি প্রশ্ন আছে—একটি সমাজ তার বিদ্রোহী কবিকে কত সহজে নিজের করে নিতে পারে, অথচ তাঁর বিদ্রোহকে নিজের জীবনের বাইরে রেখে দিতে পারে?

প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে গেলে নজরুলের জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় দিয়ে শুরু করা যায়। তবে তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘বিদ্রোহী’ দিয়ে নয়, ‘ধূমকেতু’ দিয়ে।

১৯২২ সালে নজরুল সম্পাদিত ‘ধূমকেতু’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর ভাষা ছিল সরাসরি, আপসহীন। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ‘আনন্দময়ীর আগমনে’। ধর্মীয় প্রতীকের আড়ালে লেখা কবিতাটিতে ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিবাদ। পরিণতিতে পত্রিকাটি নিষিদ্ধ এবং নজরুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। ১৯২৩ সালে তাঁকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাগারে বন্দীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে তিনি অনশনও করেছিলেন।

এখানে নজরুলের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে, যা তাঁকে শুধু সাহসী কবি হিসেবে দেখার চেয়ে বেশি কিছু ভাবতে বাধ্য করে। তিনি কেবল প্রতিবাদের কবিতা লিখে থেমে থাকেননি। নিজের লেখার রাজনৈতিক পরিণতিও তাঁকে বহন করতে হয়েছিল। আজ আমরা তাঁর প্রতিবাদী পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত করি; কিন্তু সেই প্রতিবাদের মূল্য কতটা ছিল, তা মনে রাখি কি?

কারাগারে যাওয়া কোনো মানুষকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মহৎ করে তোলে না। জেল খাটলেই কারও প্রতিটি মত সঠিক হয়ে যায় না। নজরুলকে বুঝতে হলে তাঁকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে বসানোর প্রয়োজন নেই। বরং সাহসের পাশাপাশি তাঁর সীমাবদ্ধতা, তাঁর সময়ের দ্বন্দ্ব এবং চিন্তার জটিলতাগুলো নিয়েও আলোচনা করা দরকার। মানুষকে প্রতীকে পরিণত করার একটা সমস্যা হলো, একসময় প্রতীকটি বাস্তব মানুষটির জায়গা দখল করে নেয়।