শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬Loginবন্ধুদের লেখাকার্যক্রমফিচারখেলাক্যারিয়ারমনোবন্ধুফটো ফিচারবন্ধুসভা সম্পর্কে খেলানক্ষত্র নেভে নালেখা: সুদীপ্ত রায়প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ০০ আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন লিওনেল মেসিএএফপি‘লিওনেল মেসি হ্যাজ শেকস হ্যান্ডস উইথ প্যারাডাইস’—পিটার ড্রুরির এই বিখ্যাত কমেন্ট্রি আর্জেন্টিনা এবং মেসির ভক্তরা কখনোই হয়তো ভুলবে না। একজন ফুটবলার হিসেবে যা কিছু অর্জন সম্ভব, সবটাই অর্জন করেছেন রোজারিওর বিস্ময়–বালকটি। মহা আড়ম্বরপূর্ণভাবে এস্তাদিও মাস্ মনুমেন্তালে জাতীয় দলের হয়ে খেলার ইতি টানলেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচিতিনি।

ক্লাবে অবশ্য এখনো খেলা চালিয়ে যাবেন। ব্যক্তিগত অর্জন বাদে যদি মেসির লাইফস্টাইলের দিকে তাকাই, খুব সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছিলেন; বার্সেলোনায় তাঁর চুক্তি হয়েছিল একটি টিস্যু পেপারের ওপর। এরপর দিন যত বেড়েছে, মেসির পারফরম্যান্স তত শাণিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে গোলের পর লিওনেল মেসিরয়টার্সমেসির ফুটবল ক্যারিয়ারকে যদি আমরা দুই ভাগে দেখি, প্রথম ভাগ ক্লাবের অর্জনে ভরপুর এবং দ্বিতীয় ভাগে জাতীয় দলের হয়ে যা কিছু সম্ভব সব। বিশ্বকাপের তিনটি ফাইনাল খেলা তো আর চাট্টিখানি কথা নয়। জিতেছেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ। দুবার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ সম্মাননা গোল্ডেন বল, আটটি ব্যালন ডি’অর! ছয়টি গোল্ডেন বুটও আছে এ তালিকায়। একুশ শতকের প্রথম দশকের লিজেন্ডদের থেকে শুরু করে বর্তমানের সুপারস্টার। সবার সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক পারফর্ম ধরে রেখেছেন, চলতি বছরের ব্যালন ডি’অর নমিনেশন তারই প্রমাণ।

মেসি নিজে খেলেছেন, সতীর্থদের খেলিয়েছেন। জয় করেছেন। ‘প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়’, বলেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। কিন্তু জাতীয় দলের অন্তিম ম্যাচেও অমলিন ছিল তাঁর পারফরম্যান্স। দুটি অ্যাসিস্ট এবং একটি গোল, ম্যাচ রেটিং ৯.৩!

ফুটবলকে এক পাশে রাখলে ব্যক্তিগত জীবনে মেসি যথেষ্ট সাদামাটা। কখনো তেমন কথার খই ফুটতে দেখা যায়নি তাঁর মুখে। তবে ২২ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সৌদি আরবের কাছে হারের পর মেসি বলেছিলেন, ‘সমর্থকদের বলব, আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখুন, আমরা আপনাদের হতাশ করব না। কোনো অজুহাত দেব না, আমাদের এখন আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

একটি ঘটনা এখনো স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করে। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের কনমেবল বাছাইপর্ব। আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম নাটকীয় ও স্নায়ুচাপের অধ্যায়। শেষ রাউন্ডের আগপর্যন্ত ১৯৭০ সালের পর প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এখানেও ত্রাণকর্তা সেই মেসি! করলেন হ্যাটট্রিক, দলকে টেনে তুললেন বিশ্বকাপে। যেন ঈশ্বর তাঁকে দায়িত্ব দিয়েই পাঠিয়েছিলেন, ত্রাণকর্তা হিসেবে।