আর এই শহরের তাকাতা মাতসুবারা সমুদ্রসৈকতের তীরে দাঁড়িয়ে আছে একটি বিখ্যাত পাইনগাছ—মিরাকল পাইন। জাপানিজ ভাষায় যাকে বলা হয়, ‘কিসেকি নো ইপ্পন মাতসু’। যার বাংলা অর্থ, অলৌকিকভাবে বেঁচে থাকা একটি পাইনগাছ।

রিকুজেনতাকাতা শহরের উপকূলীয় তাকাতা মাতসুবারা সমুদ্রসৈকতটি একসময় বিশাল পাইন বনের জন্য বিখ্যাত ছিল। দুই কিলোমিটার উপকূলজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পাইনগাছ দাঁড়িয়ে ছিল। উপকূলীয় পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বনের অনেক গাছের বয়স ছিল ৩০০ বছরের বেশি। শত শত বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা সেই গাছগুলো যেন প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের দীর্ঘ সম্পর্কের নীরব সাক্ষী।

সেই পাইন বনের মধ্যে দিয়ে সমুদ্রের দিকে তাকালে অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যেত। বাতাসে পাইনগাছের মৃদু শব্দ, সামনে বিশাল সমুদ্র আর সারি সারি সবুজ গাছ—সব মিলিয়ে জায়গাটি ছিল যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি।

কিন্তু ২০১১ সালের সেই ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট বিশাল সুনামি মুহূর্তের মধ্যে বিধ্বস্ত করে দেয় তাকাতা মাতসুবারাকে। প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ভেসে যায় সেই সুবিশাল পাইন বন। যে বনে একসময় হাজার হাজার গাছ দাঁড়িয়ে ছিল, সেখানে নেমে আসে এক অসীম নীরবতা। সুবিশাল সেই পাইন বনের মধ্যে মাত্র একটি গাছ দাঁড়িয়ে থাকতে সক্ষম হয়। সেই গাছ পরবর্তী সময় মিরাকল পাইন নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

মাত্র একটি গাছ কোনোভাবে রক্ষা পেয়েছিল বলে সবাই তাকে মিরাকল পাইন নামে ডাকতে শুরু করল। সেখান থেকেই তার বিখ্যাত হয়ে যাওয়া। কিন্তু এটি শুধু একটি গাছের বেঁচে থাকা ছিল না; ধ্বংসের মধ্যেও যেন জীবনের একটি ছোট্ট প্রদীপ জ্বলে থাকা ছিল।

ধ্বংসস্তূপের মধ্যে যখন চারদিকে ধ্বংস, কাদা, ভাঙা বাড়ি ও হারিয়ে যাওয়া মানুষের স্মৃতি, তখন সেই গাছ বেঁচে থাকা মানুষের কাছে হয়ে ওঠে আশার প্রতীক। প্রিয়জন হারানো মানুষ, ঘরবাড়ি হারানো মানুষ, সর্বস্ব হারিয়ে ফেলা মানুষ—তারা যখন সেই একাকী গাছটির দিকে তাকাত, তখন হয়তো তাদের মনে একটি প্রশ্ন জাগত—এত কিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরও কি আবার নতুন করে শুরু করা সম্ভব?