বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়কের দুই পাশে সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা ট্র্যাক থাকে। সেই ট্র্যাকে সাইকেলে প্যাডেল ঘুরিয়ে গন্তব্যে ফিরছে মানুষ– এমন চিত্র সেসব দেশে চিরচেনা। কিন্তু আমাদের দেশের চিত্র বিপরীত। যানজট, ধুলাবালি আর গাড়ির ভিড়ে আলাদা ট্র্যাক না থাকায় শহরগুলোতে সাইকেল নিয়ে বের হওয়া যায় না। তাই গড়ে ওঠেনি অভ্যাস। অথচ এক গবেষণা জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বে বেশি সাইকেল চালানোর তালিকায় বাংলাদেশের নাম রয়েছে ১৫ নম্বরে।

তবে এবার সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের পাশে এমন একটি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে, যার দুই পাশে রাখা হয়েছে সাইকেল চালানোর দুটি ট্র্যাক। কিছুদিনের মধ্যেই সড়কটিতে সাইকেল চালানো যাবে। এর মধ্য দিয়ে সাইকেল চলাচলে নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে।

আধুনিক নগর পরিকল্পনায় নিরাপদ ফুটপাত, সাইকেলের লেন (ট্র্যাক), পথচারীবান্ধব অবকাঠামো ও সবুজায়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বিমানবন্দর সড়কের সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হচ্ছে। পতেঙ্গা সৈকতের পাশেই সড়কটির অবস্থান হওয়ায় এখানে বেড়াতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকও সাইকেলে চড়ে চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন। অদূর ভবিষ্যতে এটা সাইকেল-ট্যুরিজমের নতুন দুয়ারও খুলতে পারে।

পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট রোড সম্প্রসারণ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কে পৃথক সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ঘেঁষেই সড়কটির অবস্থান। এটির নির্মাণকাজ এখন শেষ পর্যায়ে। প্রাথমিকভাবে ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ বিমানবন্দর সড়কটির চার লেনের দুপাশে রাখা হয়েছে ফুটপাত। মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে মিড আইল্যান্ড। সড়কের একপাশে ল্যান্ডস্কেপিং ও ওয়াকওয়ের সঙ্গে পাশাপাশি রাখা হয়েছে সাইকেল চলাচলের জন্য দুটি ট্র্যাক। সাইকেল ট্র্যাকের দুপাশে ইটের কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এখন পাথরের কার্পেটিং করেই চলাচলের জন্য সাইকেল ট্র্যাক খুলে দেওয়া হবে।

সায়েন্টিফিক আমেরিকান ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক গবেষণা জরিপে বাংলাদেশের নাম উঠে এসেছে। গবেষকরা ১২১টি দেশের প্রায় ১১ হাজার ৫৮৭টি শহরের গুগল ম্যাপের তথ্য ঘেঁটে এই তালিকা তৈরি করেছেন। তাতে বাংলাদেশের নাম রয়েছে সেরা ১৫ নম্বরে। সাইকেল চালানোর দিক দিয়ে বিশ্বসেরা শহর এখন নেদারল্যান্ডসের ওয়াজেনিনজেন। সেখানে বেশির ভাগ মানুষই সাইকেল চালান।

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদত হোসেন সমকালকে বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়কে সাইকেলের জন্য আলাদা ট্র্যাক রাখা হয়। আমি নিজেই অনেক দেশে এটা দেখেছি। কিন্তু আমাদের দেশে এই ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়নি। তাই প্রথমবারের মতো আমি একটি সড়কের দুপাশে সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করেছি। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিগগির সাইকেল চালানোর জন্য এই ট্র্যাক খুলে দেওয়া হবে।’