খুলনা প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া ৬৯ জনের মধ্যে ৬৭ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে। রোববার বিকেল ৫টায় খুলনা জেলা থেকে বাদ পড়া ৬৭ জনের রোল নম্বর নতুন করে প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
নতুন করে নিয়োগপত্র পেতে যাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে আছেন বিউটি রানী বৈরাগীর ছেলে ভিক্টর বৈরাগী। দীর্ঘদিন গার্মেন্টসে কাজ করা বিউটি রানী বৈরাগী গত বৃহস্পতিবার জানতে পারেন তার বড় ছেলে ভিক্টর সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না। পরে শনিবার এর কারণ জানতে জেলা শিক্ষা অফিসে আসেন তিনি।
এ নিয়ে গতকাল শনিবার দৈনিক সমকালে ‘ছেলের চাকরি না হলে আমাকে খাওয়াবে কে?’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়।
সেদিন সমকালকে বিউটি রানী বলেন, ‘অনেক কষ্টে ছেলে দুটিকে মানুষ করেছি। এখন আগের মতো কাজ করতে পারি না। ছেলের চাকরি হওয়ায় আমি গার্মেন্টসের চাকরি ছেড়ে বাড়ি চলে আসছি। এখন ওর যদি চাকরি না হয়, ছোটটার (ছোট ছেলের) লেখাপড়ার খরচ কে দেবে? আমাকে খাওয়াবে কে? আমার তো মরা ছাড়া উপায় থাকবে না।’
কথা বলতে বলতে বিউটি রানীর চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। কিছু সময় চুপ থেকে আবার বলতে শুরু করেন, ‘আমার অল্প বেতনের টাকা আর নিজেরা টিউশনি করে ওরা বড় হয়েছে। রাজনীতি করার মতো অবস্থাও আমাদের না। আমার পরিবারের কেউ কোনো দিন রাজনীতি করেনি। আমার ছেলেকে কোন বিবেচনায় বাদ দিল—জানতে চাই।’
ছেলের চাকরি নিশ্চিত হওয়ার পর আজ বিকেল ৫টায় সমকালের খুলনা ব্যুরোকে বিউটি রানী বলেন, ‘আজ সারা দিন ডিসি অফিসে ঘুরেছি। চাকরিটা না হলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হতো। এখন একটু শান্তি লাগছে। সৃষ্টিকর্তা সকলের ভালো করবেন।’