পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রমীলা টুডু ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়া রানী রায়। দুজনের হাতেই নতুন বাইসাইকেল। বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কষ্ট কমাতে সাইকেল পেয়ে ভীষণ খুশি তারা। শুধু সাইকেলই নয়, দুজন পেয়েছে এক বছরের পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় খাতা, কলম, পেনসিল, জ্যামিতি বক্সসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ। বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীদেরও দেওয়া হয় শিক্ষাসামগ্রী।

ঈশ্বরগ্রাম আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রমীলা টুডু। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এই শিক্ষার্থীর বাড়ি বিরল উপজেলার মাগুরাবাদ গ্রামে। দিনমজুর মা-বাবার বড় সন্তান সে। অভাবের সংসারে মা-বাবার সঙ্গে থাকতে না পেরে তাকে থাকতে হচ্ছে গুচ্ছগ্রামে নানাবাড়িতে। নানাবাড়ি থেকে দূরে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিদিন এই পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে কষ্ট হতো তার। এখন সাইকেল পেয়ে সেই কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।

দিনাজপুর বন্ধুসভার একটি ভালো কাজ।একই দিন বিরল উপজেলার আজিমপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়া রানী রায়ের হাতেও তুলে দেওয়া হয় একটি বাইসাইকেল। প্রিয়ার বাবা মারা গেছেন প্রায় তিন বছর আগে। দিনমজুর মায়ের আয়ে চলে তাদের সংসার। তিন বোনের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এই পরিবারের জন্য বেশ কষ্টকর। বিদ্যালয় থেকে প্রিয়ার বাড়ির দূরত্ব বেশি হওয়ায় প্রতিদিন এই পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে আসতে কষ্ট হতো তার।

শিক্ষা উপকরণ ও সাইকেল পেয়ে তাই আনন্দে আবেগাপ্লুত প্রিয়া বলে, ‘আমি ভীষণ খুশি। মা সাইকেলটি দেখলে আরও খুশি হবে। এখন থেকে সাইকেল চালিয়ে নিয়মিত স্কুলে আসব।’

উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এম কে এ জিন্নাত আলী বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি বিদ্যালয়ের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছে প্রথম আলো বন্ধুসভা। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে।’

দিনাজপুর বন্ধুসভার একটি ভালো কাজ।ঈশ্বরগ্রাম আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘চারটি গুচ্ছগ্রাম ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী