শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি দূর পরবাস দুঃস্বপ্নলেখা: লিয়াকত হোসেনপ্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ৩০ অলংকরণ: মাসুক হেলালগত রাতে আমি এক ভয়ানক এবং অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেছি।
স্বপ্নে দেখলাম, আমি এক বিশাল প্রাসাদের ভেতর দাঁড়িয়ে আছি। সেখানে একের পর এক লম্বা লম্বা ঘরের সারি, যার যেন কোনো শেষ নেই। প্রতিটি ঘর একদম নিঝুম, শান্ত আর জনশূন্য। আসবাবপত্র আর দেয়ালের কাঠের প্যানেলগুলোর ওপর ধুলার পুরু আস্তরণ জমে আছে। দেয়ালে ঝুলছে প্রাচীন আমলের কিছু অদ্ভুত ও হাস্যকর খোদাই করা ছবি। চারপাশটা এক নিরেট, নিস্তেজ নীরবতায় ডুবে আছে—যেন কোনো বধির কানের ভেতরকার অবশ নীরবতা। আশেপাশের কোনো শব্দ চেনার জন্য আমি কান খাড়া করে বৃথা চেষ্টা করলাম। সবকিছু এত বেশি পরিত্যক্ত আর বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছে যে আমার মনে এক ধনী ব্যক্তির কথা জাগল। এমন একজন ধনী মানুষ, যিনি এত বিপুল প্রাসাদ আর দুর্গের মালিক যে নিজে সবগুলোর কথা মনেই রাখতে পারেন না; আর এই প্রাসাদের কথা তিনি হয়তো সম্পূর্ণ ভুলে গেছেন। অথবা এমনও হতে পারে, তিনি বুড়ো হয়ে গেছেন এবং তাঁর স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে।
কিন্তু...আমি নিজে এখানে কী করছি? কীভাবে এই অচেনা জায়গায় এলাম? সেই কথাটাই আমি একদম ভুলে গেছি!
আমার কেবল আবছা মনে পড়ছিল যে এই শহরে আমার খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু একটা করার কথা ছিল। কিন্তু কাজটা কী, তা কিছুতেই আর মনে করতে পারলাম না। ঘরের ভেতরটা এক অদ্ভুত হলদেটে আলো-আঁধারিতে ভরে আছে। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই এমন গোধূলির মতো অন্ধকার নেমে এল কীভাবে? এই মনমরা গোধূলিবেলাটা আমার ভেতরে এক তীব্র অস্বস্তি ও আতঙ্ক তৈরি করতে লাগল।
আমি মেঝের ওপর পড়ে থাকা জিনিসগুলোকে খুঁটিয়ে দেখে চেনার চেষ্টা করলাম। নিজের চারপাশটা একটু চিনে নেওয়ার চেষ্টা করলাম। কারণ, আমার মনের এক কোণে বারবার মনে হচ্ছিল, আমি তো আগেও বহুবার এখানে এসেছি, এই জায়গাটা তো আমার নিজের বাড়ির মতোই পরিচিত হওয়ার কথা ছিল! কিন্তু আমার স্মৃতিগুলোকে কিছুতেই এক সুতোয় সাজাতে পারলাম না।
ঠিক কেমন অনুভূতি হচ্ছিল জানেন? ওই যে—কোনো অতি পরিচিত নাম, কোনো শব্দ বা অভিব্যক্তি, যা আপনি জীবনে হাজারবার ব্যবহার করেছেন, সেটা হুট করে ভুলে গেলে যেমন হয়। মনে হয় এই তো জিবের ডগায় চলে এসেছে, কিন্তু কিছুতেই তা মুখে আনা যায় না!