রাজধানীর আদাবরে শ্যামলী হাউজিং এলাকায় হামলা চালিয়ে বাড়ি দখলের চেষ্টা

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:২১ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:২২

‘টাকা-পয়সা দিয়ে সমাধান কর। নইলে বাড়িতে থাকতে পারবি না।’ গত রোববার মাঝরাতে আদাবরে শ্যামলী হাউজিংয়ের ৪১/৪২ নম্বর বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী মো. শাহজাহানের ফোনে কল করে এই হুমকি দেওয়া হয়। উত্তরে শাহজাহান বলেন– ‘ভাই, আমি দারোয়ান। আমাকে কেন এসব বলছেন?’ এরপর হুমকিদাতা শাহজাহানের কাছে জানতে চান, তিনি বিয়ে করেছেন কিনা। শাহজাহান বিয়ে করেননি– জানার পর ওপাশ থেকে বলা হয়, ‘তুই তো বিয়ে করিস নাই, তোর জন্য কান্দারও লোক নাই।’

সোমবার ওই বাড়ির মালিক আমিনুর রহমানের ভাতিজা মনির হোসেন সমকালকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাড়ির সামনে ‘টু-লেট’ সাইনবোর্ডে দুটি মোবাইল ফোন নম্বর দেওয়া আছে। এর মধ্যে একটি নিরাপত্তারক্ষী শাহজাহানের। হয়তো সেখান থেকে নম্বরটি নিয়ে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। যে নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, সেটি এসআরবিকে (বিলুপ্ত র‍্যাব) দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার সকালে রামদা, চাপাতি, পিস্তলসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল আদাবরের ওই বাড়িতে হামলা চালায়। অভিযোগ উঠেছে, আটতলা বাড়িটি দখলের চেষ্টা হয়েছিল। এ ঘটনায় সেদিনই বাড়ির মালিক আমিনুর রহমান বাদী হয়ে আদাবর থানায় মামলা করেন। মামলায় খুরশীদ আলম খান, হাবিবুল্লাহ রাসেল, কামরান হোসেন, মিজানুর রহমান, সজীব হোসেন, হাসিবুল হাসান ও তানভীর– এই সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বাড়ি দখলচেষ্টার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, একটি চাপাতিও উদ্ধার হয়েছে। যার নেতৃত্বে ওই বাড়িতে হামলা হয়েছে, তাকেও ধরা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন– রাসেল, আতিকুল, আবুল কালাম আজাদ, রাসেল পিয়াদা ও লিয়ন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও আদাবরের বাড়িটি দখল করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আমিনুর রহমানের ভাতিজা মনির হোসেন। মনির হোসেন দাবি করেন, খুরশীদ আলম নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি দখল করে নেন। আদাবর থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা হয়নি। একপর্যায়ে আদালতে মামলা করা হয়। আদালত আদাবর থানাকে তদন্ত করতে বলেন। পরে ওই মামলা পিবিআই তদন্ত করে। শেষ পর্যন্ত গত ১২ মার্চ বাড়িটির দখল ফেরত পান তারা।