সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে তিন স্কুলছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় বাল্কহেডসহ চারজনকে আটক করেছে নৌ পুলিশ। গত রোববার রাতে বৈদ্যেরবাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে নিহত দুই যমজ ভাইয়ের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলার বাড়ি মজলিস হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে বাড়ি মজলিস সামাজিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এ ছাড়া নিহত আবিদ হোসেনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি খুলনায় নিয়ে দাফন করা হয়। সোনারগাঁ থানার বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশের পরিদর্শক রুহুল আমিন বলেন, তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় একটি বাল্কহেড জব্দ ও চারজনকে আটক করা হয়েছে। নিহত যমজ দুই শিক্ষার্থীর বাবা ফারুক আহম্মেদ বাদী হয়ে মামলা করবেন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা মেঘনা নদীতে যেখানে বাল্কহেডটি থামানো ছিল, সেখানে গোসল করছিল। বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু করার পর নদীর পানিতে প্রচণ্ড ঘূর্ণি তৈরি হয়। এ সময় সেখানে থাকা একজন নারী টান দিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে সরাতে পারলেও অন্য তিনজন পানিতে তলিয়ে যায়। আটক চারজনের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

আটক চারজন হলেন– বাল্কহেড এমবি সোনারগাঁ মদিনা-৪-এর সুকানি মো. হাবিবুর রহমান, গ্রিজার মো. আবু জাফর এবং লস্কর এবাদুল হাওলাদার ও মো. সিফাত। বাল্কহেডটি রনি এন্টারপ্রাইজের। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোহাম্মদ হোসেন মিয়া ও সুজিত কুমার সাহা। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাল্কহেডের পাখার সঙ্গে ধাক্কা লেগে শিক্ষার্থীরা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। সোনারগাঁ থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক জানান, এ ঘটনায় এখনও থানায় কেউ অভিযোগ দেননি। অভিযোগ দিলে মামলা নথিভুক্ত করা হবে। ঘটনার বিষয়ে তদন্তও চলছে।

ই-মেইল: [email protected], [email protected]