নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজের চার দিন পর হেলালউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে মেঘনার শাখা নদী মারিখালীর রতনপুর সেতু এলাকা থেকে এটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত শনিবার তাঁর তিন ছেলেমেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হেলালউদ্দিনকে পাওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলো চার দিনের উদ্ধার তৎপরতা। সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশ যৌথভাবে এ মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত হেলালউদ্দিনের ভগ্নিপতি মোক্তার হোসেন জানান, মরদেহ দাফনের জন্য গ্রামের বাড়ি হোমনার শ্রীমুদ্দি নেওয়া হয়েছে। গত শনিবার ভাতিজা-ভাতিজিদের মরদেহ সেখানে দাফন করেছেন তারা।
বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল বলেন, নিখোঁজ হেলালউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে তাদের অভিযান শেষ হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যপাড়া গ্রামের শাহপরানের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাদের ১৩ জন আত্মীয় বিয়ের বাজার, দুটি গরু ও একটি খাসিসহ ট্রলারে করে যাচ্ছিলেন। মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় ট্রলারটি ঝড়ের কবলে পড়ে তলিয়ে যায়। এ সময় আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার ৮ জনকে উদ্ধার করে। তবে রায়েশা বেগম এবং হেলালউদ্দিন ও তিন সন্তান সজিব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেন নিখোঁজ হন। পরে রায়েশা বেগমের মরদেহ উদ্ধার হয়। গত শনিবার সকালে মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে হেলালউদ্দিনের তিন সন্তানের মরদেহ উদ্ধার হয়।
এক দিনে দুজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে একদিনে দুজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের সিরাজদীখান বাজারের কাঠপট্টি এলাকার একটি ভবনের নিচতলার শয়নকক্ষ থেকে গতকাল সকালে একরামুল হক নামে এক এনজিও কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি টিএমএসএসের সিরাজদীখান শাখায় ফিল্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি কুড়িগ্রামের রাজাবাজার হাট থানার চাকিরপশার গ্রামের আছের উদ্দিনের ছেলে। এদিন বিকেলে কেয়াইন ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে নিজের ওষুধের দোকান থেকে আমিনুল ইসলাম নামে আরেক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সিরাজদীখান থানার ওসি আলাউদ্দিন জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
গাড়ি ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যু গাজীপুর মহানগরের পূবাইলে গাড়ির ধাক্কায় রুজুকা বেগম (৩০) ও তার সাড়ে তিন বছর বয়সী মেয়ে ইয়ামনি নিহত হয়েছেন। গত রোববার রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে পূবাইল থানার মেঘডুবি এলাকায় গাজীপুর-গাউছিয়া বাইপাস মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পূবাইল থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, রুজুকা বেগম শেরপুরের শ্রীবরদী থানার বাগহাতা গ্রামের মনির হোসেনের স্ত্রী। তারা গাজীপুরের সালনা বাজার এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। পুলিশ জানায়, মহাসড়কে একটি গাড়ির ধাক্কায় মা-মেয়ে গুরুতর আহত হন। পুলিশ গিয়ে তাদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক রুজুকা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সে সম্পর্কে কিছু বলতে পারেনি পুলিশ। (প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]