দেশে ছয় মাসব্যাপী জরুরি ডেঙ্গু মোকাবিলা কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিগুলোর ফেডারেশন এবং তাদের অংশীদার সংগঠনগুলো। গতকাল বৃহস্পতিবার রেড ক্রিসেন্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ কার্যক্রমের আওতায় ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও সংক্রমণপ্রবণ এলাকার প্রায় তিন লাখ মানুষকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

সর্বোচ্চ ডেঙ্গু সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলোকে এ কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ও আশপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠী রয়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে দেশের অন্য এলাকায়ও কার্যক্রমটি সম্প্রসারণ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৬৭ হাজার ৩৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ২০১ জনের। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, ‘ডেঙ্গু দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি। রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ডেঙ্গু মোকাবিলায় কাজ করছেন।’

সরকারি হাসপাতাল ও রেড ক্রিসেন্টের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে এক লাখ ইউনিট শিরার স্যালাইন, ৫০ হাজার ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট, তিন হাজার ট্রিপল রক্তের ব্যাগ, ১০০টি রক্তের নির্দিষ্ট উপাদান পৃথক করার কিট এবং ২৫০০টি মশারি। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিগুলোর ফেডারেশন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৩৮ হাজার এনএস১ ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট দিয়েছে। এ ছাড়া রেড ক্রিসেন্টের ঢাকা রক্তকেন্দ্রকে দেওয়া হয়েছে ৫০টি রক্তের নির্দিষ্ট উপাদান পৃথক করার কিট। এ ছাড়া ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ২৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এককালীন ১০ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের পরিবার, যারা ডেঙ্গুর চিকিৎসা ও অসুস্থতার কারণে অতিরিক্ত ব্যয় করে আর্থিক সংকটে পড়েছেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ই-মেইল: [email protected], [email protected]