বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬Loginবন্ধুদের লেখাকার্যক্রমফিচারখেলাক্যারিয়ারমনোবন্ধুফটো ফিচারবন্ধুসভা সম্পর্কে ফিচারডেঙ্গু বাড়ার পরই কেন আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়লেখা: এম এম মাসুম বিল্যাহপ্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ১১ প্রতীকীফাইল ছবিএকটি মশা খুব বেশি কিছু চায় না—একটু পানি, একটু উষ্ণতা, আর কয়েক দিন সময়। আশ্চর্যের বিষয়, এই সামান্য তিনটি জিনিস আমরা তাকে কত সহজেই দিয়ে দিই।
ডেঙ্গুর গল্প তাই শুধু এডিস মশার গল্প নয়। এটি আসলে আমরা কেমন শহর বানিয়েছি, কীভাবে বৃষ্টির পানি সামলাই, কীভাবে বর্জ্য ফেলি, নির্মাণ করি, হাসপাতাল প্রস্তুত রাখি এবং বিপদ আসার আগে কতটা বুঝতে পারি—তার গল্প।
খুলনার দিকে তাকালেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে এ বছর ৯ হাজার ১০৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুধু এক দিনেই নতুন করে হাসপাতালে গেছেন ৩০২ জন। খুলনা জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০৩; এর মধ্যে ২ হাজার ৭ জনই চিকিৎসা নিয়েছেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। একই সময়ে বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের।
কিন্তু সংখ্যাগুলো আসলে কী বলছে?সংখ্যাগুলো বলছে, ডেঙ্গু এখন আর ‘মশার মৌসুমে একটু সাবধান’ ধরনের কোনো বিষয় নেই। এটি এমন একটি রোগ, যার বিস্তার আমাদের শহরের কাঠামোর সঙ্গে মিশে গেছে।
আমরা সাধারণত বলি, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখুন। কথাটি সত্য, কিন্তু অসম্পূর্ণ। একজন মানুষ তাঁর বাড়ির টবের পানি ফেলে দিতে পারেন, কিন্তু পাশের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে জমে থাকা পানি তিনি সরাতে পারেন না। নিজের বারান্দা পরিষ্কার রাখতে পারেন, কিন্তু রাস্তার পাশে পড়ে থাকা প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার বা বন্ধ ড্রেনের দায় একা নিতে পারেন না। ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের দায়িত্ব যখন শুধু নাগরিকের ঘাড়ে চাপানো হয়, তখন সমস্যার একটি বড় অংশ অদৃশ্য থেকে যায়।
খুলনার হাসপাতালগুলোর সাম্প্রতিক চিত্র সেই অদৃশ্য অংশটিকেই দৃশ্যমান করেছে। আগস্টে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত ২৫টি শয্যার বিপরীতে ৬১ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪০টি শয্যার বিপরীতে রোগী ছিলেন ১১৩ জন। কোথাও রোগীকে শিশু ওয়ার্ডে, কোথাও মেঝে বা বারান্দায় রাখতে হয়েছে।