শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি পাঠকডিমকাহনলেখা: মুহাম্মদ শফিকুর রহমানপ্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩: ০১ দামে কম। সহজলভ্য। পুষ্টিকর। এমন যত খাবার আছে, তার মধ্যে ডিম অন্যতম। হতে পারে সেটা হাঁস কিংবা মুরগির ডিম। ডিম পছন্দ করে না, এমন মানুষ কমই আছে। কিন্তু আমাদের দেশে একজন মানুষের বছরে যতটি ডিম খাওয়া দরকার, ততটি খায় না। ডিমের প্রতি একধরনের অবহেলা-অনাদর চলে। বাসায় মাছ-মাংস নেই, তখন ডিম রান্না করো। কিন্তু ডিম যে সকালের নাশতায় থাকা জরুরি, সেটা আমরা অনেকেই ভুলে যাই।
বাংলাদেশে ডিমের উৎপাদন অবশ্য দিন দিন বাড়ছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে ডিম উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৪৪০ কোটি ৬৫ লাখ। এ সময়ে জনপ্রতি ডিমের প্রাপ্যতা দাঁড়িয়েছে বছরে ১৩৭ দশমিক ১৯টি। ২০১০–১১ অর্থবছরে যেখানে ডিম উৎপাদন ছিল ৬০৭ কোটি ৮৫ লাখ, সেখানে ১৪ বছরে উৎপাদন প্রায় চার গুণ হয়েছে।
শুধু তা-ই নয়। ডিম নিয়ে আছে ব্যাপক ভুল ধারণা। অনেকেই কুসুম ফেলে শুধু ডিমের সাদা অংশ খাচ্ছেন। একটা চাপা ভয় কাজ করে—ডিমে তো অনেক ফ্যাট। খেলে কী জানি কী হয়? ডিমের প্রায় সব ভিটামিন, খনিজ ও প্রোটিন থাকে কুসুমে। কুসুমই যদি ফেলে দিলেন, তাহলে আর ডিম খাওয়ার দরকার কী?
এক. ডিমে ভিটামিন সি বাদে সব উপকারী ভিটামিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়োডিন, কোলিন, সেলেনিয়াম আছে।
দুই. প্রতিদিন একটি ডিম, একটি কলা কোনোভাবেই ডায়েটে ক্ষতি করে না। ডিম এলডিএল বা মন্দ কোলেস্টেরল কমায়। একটি ডিমে ৬.৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে। একটি ডিমে ২০০ মিলিগ্রামের মতো কোলেস্টেরল আছে। একজন স্বাভাবিক মানুষ দৈনিক ৩০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল গ্রহণ করতে পারে। ডিমের কুসুমে আছে বেটাইন, যা রক্তে হোমোসিস্টেইনের মাত্রা কমায়।
তিন. ডিমে যে চর্বি আছে, তার তিন-চতুর্থাংশ হার্ট ও রক্তনালির জন্য উপকারী অসম্পৃক্ত চর্বি। ডিমে আছে হার্টের জন্য উপকারী ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড।