শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি আয়োজনডলারের একক আধিপত্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ: বৈদেশিক বাণিজ্যে বাংলাদেশি টাকার নতুন সম্ভাবনালেখা: মাহমুদুল হাসানপ্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২: ৫৬ টাকাপ্রতীকী ছবিবিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের প্রভাব দীর্ঘদিনের। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পণ্য আমদানি-রপ্তানি, জ্বালানি কেনাবেচা, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় ডলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিনিময়মূল্য বৃদ্ধি কিংবা সরবরাহে সংকট দেখা দিলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে।

কিন্তু পরিবর্তিত বিশ্ব অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অনেক দেশই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিজস্ব মুদ্রা কিংবা অংশীদার দেশের মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ খুঁজছে। এর উদ্দেশ্য ডলারকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া নয়; বরং বৈদেশিক লেনদেনে একক মুদ্রার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বাংলাদেশের জন্যও এই উদ্যোগ হতে পারে বৈদেশিক বাণিজ্যের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি তৈরি পোশাক রপ্তানি, প্রবাসী আয়, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। অন্যদিকে জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির জন্য বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়।

আমদানি ও রপ্তানির অধিকাংশ লেনদেন ডলারে সম্পন্ন হলে দেশের ব্যবসায়ীদের ডলারের সরবরাহ ও বিনিময় হারের পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীল থাকতে হয়। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ঘটলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয়, পণ্যের বাজারদর এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর।

এ ছাড়া আমদানিকারকদের ডলার সংগ্রহে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় লাগলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লে ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যৎ ব্যয় নির্ধারণেও সমস্যায় পড়েন।