মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি পাঠকটাঙ্গুয়ার হাওরের গিনিপিগ শৈশবলেখা: রাসেল আহমদপ্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ২৭ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা দুটি ভিডিও ফুটেজ হৃদয়ে গভীর ক্ষতচিহ্ন এঁকে দিয়ে গেল।

প্রথম ফুটেজে দেখা গেল, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক সদলবলে টাঙ্গুয়ার হাওরের পর্যটন এলাকা ওয়াচ টাওয়ার ও নীলাদ্রী লেকের পাড়ে পর্যটকদের ফেলে যাওয়া বর্জ্য পরিষ্কার অভিযানে নেমেছেন। নিজ হাতেও কুড়িয়ে নিচ্ছেন বর্জ্য। উদ্যোগটি ইতিবাচক। এ জন্য জেলা প্রশাসক সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

কিন্তু দ্বিতীয় ফুটেজটি যেন সেই পরিচ্ছন্নতার ছবির আড়ালে থাকা অন্য এক টাঙ্গুয়ার হাওরকে সামনে নিয়ে এল। ছয়-সাত বছরের একটি শিশু আনাড়ি হাতে নৌকা বাইছে। ক্যামেরার ওপাশ থেকে এক পর্যটক প্রশ্ন করছেন, ‘তুই গান গাইতে পারিস?’ শিশুটি বলল, ‘হ্যাঁ, পারি।’ পর্যটক বললেন, ‘তাহলে গেয়ে শোনা তো, একটু জোরে গাইবি।’

দুই হাতে বইঠা বেয়ে হাপিয়ে ওঠা শিশুটি বেসুরো গলায় গাইতে শুরু করল- ‘ওই লাল টুকটুক শাড়ি পরা মাইয়া, আমার মনপ্রাণ সবই নিছে কাইড়া...।’ পর্যটক হয়তো বিনোদিত হয়েছেন। কিন্তু শিশুটির চোখেমুখে যে ক্লান্তি ও অসহায়তা, তা আনন্দের কোনো দৃশ্য ছিল না। দৃশ্যটি দেখে মনে হলো আমরা কি একটি শিশুর শৈশবকেও বিনোদনের উপকরণে পরিণত করেছি?

হাওরপারের মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত এই কথাই বলে দেয়, টাঙ্গুয়ার হাওর কেবল জল আর সৌন্দর্যের নাম নয়। মাছ, পাখি, জলজ উদ্ভিদ, হিজল-করচের বন, পানি, কৃষি এবং তীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা মিলেই এর অস্তিত্ব। হাওরের সৌন্দর্যও সেই জীবন্ত প্রতিবেশেরই ফল।

কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় হাওরকে ঘিরে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক পর্যটনের সবচেয়ে নির্মম অভিঘাত পড়ছে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ওপর। বিলাসবহুল হাউজবোটের ঝলমলে আলোর বিপরীতে তাদের জীবনে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষা, নিরাপদ যাতায়াত কিংবা শৈশবের নিশ্চয়তা। পর্যটন বাড়ছে, অর্থের প্রবাহ বাড়ছে; অথচ সেই অর্থনীতির প্রান্তে থাকা শিশুরা ক্রমেই শ্রম ও বিনোদনের পণ্যে পরিণত হচ্ছে।