জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের চাপ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, অনেক আগেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কথা থাকলেও জনগণের কথা বিবেচনায় নিয়ে তা করা হয়নি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার কখনও জনগণকে কষ্ট দিতে চায় না।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশে রিজভী এসব কথা বলেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিল বের হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
রিজভী আরও বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে ঋণ নেয়। তারা প্রশ্ন করে, বাংলাদেশে এত ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে কেন। তাদের চাপের কারণেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি এসেছে। তবে জনগণকে সুরক্ষা দিতে সরকার বিষয়টি বিলম্বিত করেছে। গ্যাস পাওয়া গেলে এবং জ্বালানি তেলের জাহাজ আসা শুরু করলে আবারও মূল্য সমন্বয় করা হবে। সমাবেশে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, তারেক রহমান বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে সচল করে ‘নতুন বাংলায়’ যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। তবে সরকারকে বিপদে ফেলতে দেশের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি চক্র উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য, ফ্যাসিস্ট ভূমিকা, দুর্নীতি ও দুঃশাসন দেশবাসী দেখেছে। কিছুদিন ধরে তারা আবারও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জানান, ‘কালচারাল ফ্যাসিস্ট’দের প্রতিহত করবে ছাত্রদল।
‘সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্য থাকা প্রয়োজন’ বাসস জানায়, জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে গতকাল আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল হয়েছে। এতে সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, গাজী গণতন্ত্র ও ইসলামকে পছন্দ করতেন এবং আওয়ামী লীগের কথিত দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করতেন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। আরও বক্তব্য দেন বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির।
ই-মেইল: [email protected], [email protected]